রোবট সোফিয়া ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ঝুঁকি

সৈয়দ আবদাল আহমদ

যন্ত্রমানবী সোফিয়া রাজধানীতে বেশ আলোড়ন তুলেছে। বিশেষ করে কিশোর-তরুণেরা এই রোবট দেখতে শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছিল। রোবট সোফিয়ার সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তরুণ-তরুণীর কথোপকথন হয়েছে; অনেকে সেলফিও তুলেছে। সৌদি আরবের নাগরিক এই সোফিয়া নামের রোবট হংকং থেকে বাংলাদেশে এসেছে। রোবটটি তরুণদের সাথে অনর্গল কথা বলেছে। এখন সে অপূর্ব দেশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রয়েছে বলেও জানায়। তরুণদের জিজ্ঞাসায় সে বলেছে, ঢাকার জামদানি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কাপড়; সে কুম্ভ রাশির জাতিকা এবং তাকে হলিউডের নায়িকা অড্রে হেপবার্নের আদলে বানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে রোবট জানিয়েছে, তার নাতনী সোফিয়ার নামেই তার নাম।
‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ অনুষ্ঠানটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেন, একবার যখন উন্নয়নের চাকা গতিশীল হয়েছে, ভবিষ্যতে তা কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। রোবট সোফিয়ার আগমন ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ চিন্তাধারায় আমরা সবাই উৎসাহিত। নিজের দেশ উন্নতি লাভ করুক এবং বাংলাদেশ একে একে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাকÑ নাগরিক হিসেবে আমাদের সবারই তা কাম্য। তবে খারাপ লাগে যখন শুনি এ ধরনের উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয় এবং ৭৫ হাজার কিংবা এক লাখ কোটি টাকা করে প্রতি বছর বিদেশে পাচার হয়ে যায়; হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে জালিয়াতি ও আত্মসাৎ হয়। খারাপ লাগে সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে যখন শিরোনাম দেখিÑ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বের হাসানের পর এবার গুম হলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ হাসান। খারাপ লাগে এই শিরোনাম দেখে যে, ‘দেশে সুশাসনের অবস্থা নাজুক, কোথাও স্বচ্ছতা নেই’ (প্রথম আলো, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭)। কিংবা যখন দেখি পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছেÑ ৫৭ ধারার মতো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিও নির্যাতনের জন্য হতে যাচ্ছে একটি ভয়াবহ আইনি হাতিয়ার ইত্যাদি।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের ঝুঁকি!
আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি নির্বাচন কমিশন শূন্য ঘোষণা করেছে। পত্রিকায় খবর বের হয়েছে, এই নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবছে আওয়ামী লীগ। ঝুঁকির কারণ হিসেবে দু’টি বিষয় উল্লেখ করা হয়। প্রথম কারণ আনিসুল হকের মতো বর্তমানে আওয়ামী লীগে ভালো প্রার্থী নেই। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগের পক্ষে জয়লাভ করা হবে কঠিন। নির্বাচনে হেরে গেলে এর প্রভাব অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। তা ছাড়া এই নির্বাচনের পরিবেশ, ভালো ও খারাপ সব কিছুই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
তবে আসল কথা হচ্ছে, শুধু উত্তর সিটি করপোরেশনই নয়, যেকোনো সুষ্ঠু নির্বাচনই আওয়ামী লীগের জন্য ঝুঁকি। আওয়ামী লীগ ভালোভাবেই জানে, দেশের বেশির ভাগ মানুষের পছন্দের তালিকায় তারা নেই। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের ভোট তাদের পক্ষে যাবে না। ভোট চলে যাবে বিএনপির ঘরে। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচনকে কিভাবে পাশ কাটানো যায়, সেদিকেই আওয়ামী লীগের বেশি খেয়াল। আওয়ামী লীগ সব সময় চায় এমন একটি নির্বাচন হোক যেটি নামে একটা ‘নির্বাচন’ হবে, তবে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে আওয়ামী লীগের হাতে। অর্থাৎ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার ব্যবস্থা হলেই আওয়ামী লীগের জন্য খুব ভালো। হেরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা ভোটের নির্বাচনটি ছিল আওয়ামী লীগের জন্য ঝুঁকিহীন এমনই সোনায় সোহাগা নির্বাচন। এ ধরনের একটি নির্বাচন আবার করতে পারলে তো কথাই নেই। কিন্তু এবার সে নিশ্চয়তা তারা পাচ্ছে না। ওই ভুয়া নির্বাচনটি করার জন্য যে ধরনের ধূর্ততা, চালাকি, প্রতারণা ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল; সেসব বিরোধী পক্ষ জেনে গেছে। ফলে একই কায়দায় এবারো ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি ঘটানো যে তত সহজ হবে না, সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে আওয়ামী লীগ। এ জন্যই নির্বাচন নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছে দলটি। এটাও তারা অনুধাবন করছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একবার তারা বোকা বানাতে পেরেছে, বারবার তো আর বোকা বানানো যায় না।
এটা সবার জানা, আওয়ামী লীগের বাইরে বিএনপিসহ দেশের প্রায় সব গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল। নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী প্রচণ্ড আন্দোলন চলছিল। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেপথ্যে বিদেশী কূটনীতিকদের শরণাপন্ন হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ঘোষণা করেছিলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। কিছু দিন পর আবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্টদূতরা এ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। বিএনপিসহ আন্দোলনরত দলগুলোকে বুঝিয়ে তারা হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে ক্ষমতাসীনেরা চোখ উল্টে ফেলেন। বেমালুম ভুলে যান তাদের প্রতিশ্রুতির কথা। শুধু ভুলেই যাননি, তারা আগের কথা অস্বীকার করেছেন। একই সাথে র‌্যাব-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে, মামলা-হামলা করে দেশব্যাপী এমন কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করা হলো যে, বিরোধী দলের পক্ষে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এভাবে চারটি বছর চলে গেছে। রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জা করে দেশ শাসন চলছেই। এভাবে হয়তো তারা আরো একটি বছর পার করবেন। এরপর তো একটি নির্বাচন হতে হবে।
সেই নির্বাচনটি আবার ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন হবে? মোটেই নয়। একই জিনিস বারবার ঘটে না। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেবে আওয়ামী লীগ, সেটাও ভাবার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগ বুঝতে পারছে, বিএনপিকে এবার নির্বাচন থেকে কোনোভাবেই বাইরে রাখা যাবে না। বিএনপি নির্বাচন করবেই; ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না। তাহলে কী করতে হবে? অন্য কৌশলে কিভাবে নির্বাচন নিজের পক্ষে নেবে তার ফন্দিই বের করছে আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীনদের আচরণ বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাথাবার্তায় মনে হয়, তারা নির্বাচন বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। তাদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।
আশির দশকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়া বিভাগের তৎকালীন পরিচালক ওই ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছিলেনÑ এটি ‘অস্থিরমতির ঘূর্ণিঝড়’। কোথায় আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড়টি তা স্থির করতে পারছিল না। ফলে কখনো পশ্চিম দিকে, কখনো পূর্ব দিকে, আবার কখনো উত্তর দিকে ঘূর্ণিঝড়টি ছুটতে থাকে। প্রায় এক সপ্তাহ এমন অবস্থা চলছিল। অবশেষে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে উপকূলে আঘাত হানে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবস্থাও এখন ‘অস্থিরমতি’। কখনো বলছে মেয়াদ একেবারে শেষ করেই নির্বাচন দেয়া হবে। আবার পরক্ষণেই বলছে, নির্বাচন এর আগেও হয়ে যেতে পারে। শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে, বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ ইত্যাদি।
একবার তারা ভাবছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে হয়তো নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারলে আগামী নির্বাচনটিও ‘হাইজ্যাক’ করা যাবে। আবার ভাবছেন, এর আবার উল্টো ফল হয় কি না। আম-ছালা দুটোই যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমতাসীনদের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে খুবই সচেতন। তারা শুধু এখন একটা সুযোগের অপেক্ষায়। এ সুযোগটি পেলে তারা কড়ায়গণ্ডায় হিসাব বুঝে নিতে পারে।
দেশের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে প্রচণ্ড অবিচার চলছে, এটা মানুষ এমনিতেই ছেড়ে দেয়ার কথা নয়। তার বাসভবন কেড়ে নেয়া হয়েছে। পরিবার থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। অসহনীয় পরিবেশের কারণেই তার এক ছেলের দুঃখজনক মৃত্যু হয়েছে। তারপরও তার প্রতি অন্যায় অব্যাহত রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫টির মতো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস হিসেবে হুকুম দিয়ে অনুমাননির্ভর ও কাল্পনিক অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলা দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া, বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে হয়রানি করার জন্যই এ মামলাটি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ নিরপেক্ষতার বিধান লঙ্ঘন করে কোনোরূপ দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই ১৫ দিনের মাথায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি অসত্য সাক্ষ্যও দিয়েছেন। খালেদা জিয়া আদালতে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াত বাংলায় তুলে ধরে আদালতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। স্পষ্টভাষায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকাকালে তিনি কোনোভাবেই এই পদের অপব্যবহার করেননি। ওই পদের অন্যায় প্রভাব খাটাননি এবং আইন ভঙ্গ ও কোনো অপরাধ করেননি, কিন্তু সরকার তাকে রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষণার হীন নীলনকশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করতে আবারো ‘মুগুর’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এটাই হয়তো ক্ষমতাসীনদের জন্য বুমেরাং হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ তৈরি করে খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করবে। ১৫১ থেকে ১৬০টি আসন আগেই নিশ্চিত করে বাকি আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নতুন প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন হবে, সময়ই সেটা বলে দেবে।

চোরের মায়ের বড় গলা
বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু সোমবার দুদক কার্যালয় থেকে বুক ফুলিয়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে যে ভঙ্গিতে কথা বললেন, তাতে প্রবাদবাক্য ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র কথাই মনে পড়ে যায়। সরকারি খাতের সবচেয়ে ভালো ব্যাংকটির ধসের কোনো চিহ্নই তার কথাবার্তা ও আচরণে ছিল না। ব্যাংকটির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা যেন কোনো ঘটনাই নয়। এত বড় জালিয়াতির ঘটনায় চার বছর পর এই প্রথম দুদক কার্যালয়ে হাজিরা দিতে আসেন আবদুল হাই বাচ্চু। তবে তার এই হাজিরা দেয়া দুদকের ইচ্ছায় নয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে। দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি হাসিমুখেই বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সামনে দুই হাত উঁচু করে বুক ফুলিয়ে কথা বলেছেন।
২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণের নামে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির ওই সময়কার চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে। চার বছর ধরে সমালোচনার মুখে থাকলেও সব রকম আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বেই ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানার ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করেছে দুদক। কিন্তু কোনো মামলাতেই তাকে আসামি করা হয়নি। বাচ্চুকে কেন দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, তার পেছনের খুঁটি কে, এই জালিয়াতির টাকার বড় ভাগ কার কাছে গেছে, সে সম্পর্কে সংসদসহ সর্বত্র আলোচনা হলেও বাচ্চু ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি এ ঘটনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক জালিয়াতদের ধরতে বাধা দলের লোক।’ একই বছরের ৮ জুলাই অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে বলেছিলেন, ‘যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, বাচ্চুকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ আবার চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল।’ দুদক আয়োজিত, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টে বাচ্চু অভিযুক্ত। এখন দেখা যাক, দুদক কী ব্যবস্থা নেয়।’ স্যুট-টাই পরে, ভালো রঙের প্রাডো গাড়িতে চড়ে আবদুল হাই বাচ্চু যখন দুদক কার্যালয়ে আসেন, তখন তার মধ্যে অর্থমন্ত্রীর ওইসব বক্তব্যের কোনো ছাপই ছিল না। তিনি সদর্পেই দুদক অফিসে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন হাসিমুখে বুক ফুলিয়ে। যেন ‘কুচ পরোয়া নেহি।’
আশির দশকে ঢাকায় অপরাধ বিষয়ে একটি সেমিনার হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেমিনারে পুলিশের তৎকালীন আইজি রকিব খোন্দকার পাঁচ বছরে দেশে কত সিঁধেল চুরি, কত ডাকাতি, রাহাজানি হয়েছে, তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এর বিপরীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাধীনতার পর থেকে ওই বছর পর্যন্ত দেশে কত হাজার কোটি টাকার বিদেশী ঋণ ও অনুদান এসেছে এবং কিভাবে তা লুট হয়েছে তা তুলে ধরে প্রশ্ন করেছিলেন ‘লাউ চুরি কি অপরাধ’?
আসলে বাচ্চু সাহেবদের কাণ্ডকীর্তি দেখে মনে হচ্ছেÑ লাউ চুরিই বড় অপরাধ। তাদের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা, জালিয়াতির ঘটনা যেন কোনো অপরাধই নয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.