পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে হবে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি বড় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে বলে মতপ্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এ বাজারে গভীরতা তথা স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে পদপে নিতে হবে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ করা উচিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজায় তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল অর্থসূচক এ মেলার আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ২০১০ সালে মার্কেটে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সঠিক নেতৃত্বের কারণে আজ মার্কেট স্থিতিশীল।
তিনি বলেন, শিক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিভাবে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের েেত্র আমাদের সুদের হার সবার চেয়ে বেশি। অন্য দিকে আমানতের সুদের হার কম। এ কারণে আমাদের এফডিআর কমে গেছে। তাহলে মানুষ করবে কী? মানুষ ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করছে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দেশে অর্থনীতির বড় শক্তি ব্যাংক। ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক থাকতে হবে। এক সময় ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ব্যাপক ব্যবসায় করেছে।
তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিভিন্ন সময় অনেক মানুষ তিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমরা এ হাহাকার, আর্তনাদ শুনি না। সে জন্য মার্কেটসংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একটি দেশের অর্থনীতি সৃষ্টিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হতে বাধ্য।
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীর তি হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের েেত্র যদি অনিয়ম হয় সে েেত্র চুপ করে বসে থাকতে পারে না বিএসইসি। যেখানে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএসইসি আইন প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগনির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে না উঠলে তা কখনো স্থিতিশীল হবে না। তাই বিনিয়োগনির্ভর পুঁজিবাজার গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। কেননা দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের জন্য আমাদের পুঁজিবাজার হতে পারে নির্ভরযোগ্য।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এ কে মোমেন বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে হলে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে আগে যে শঙ্কা ছিল তা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে। তার প্রধান কারণ হলো আমাদের সরকার আন্তরিকভাবে চান এ পুঁজিবাজারের উন্নতি হোক।
তিনি বলেন, এ মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাজারকে ঝুঁকিমুক্ত করার পাশাপাশি সচেতন বিনিয়োগকারী গড়ে তোলা। আর এ জন্যই পুঁজিবাজারের ঝুঁকি যেন আগের চেয়ে কমে আসে সে ল্েয আমরা সবাই কাজ করছি।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি ও বিপুল বিনিয়োগকারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.