মোমিন হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় রাজধানীর মতিঝিল থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। তবে কারাবন্দী অবস্থায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান রফিকুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি তারেক ওরফে জিয়া ও শাখাওয়াত হোসেন জুয়েল পলাতক।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ মোহাম্মদ জাফর, শরিফ উদ্দিন, মনির হাওলাদার, হাসিবুল হক ওরফে জনি, হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, ঠোঁট উঁচা বাবু। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, ঠোঁট উঁচা বাবু ছাড়া বাকিরা পলাতক।
আদালতে রাষ্ট্রপে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস।
আসামিদের পে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আইনজীবী এ কে এম তৌহিদুর এবং পলাতক আসামিদের পে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।
রায়ের পরে বশির আহমেদ বলেন, আদালত ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করেছেন। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখেছেন।
মোমিনের বড় ভাই সামসুল ইসলাম সুমন বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমরা বারবারই পুলিশ দ্বারা প্রতারিত হয়েছি। তারা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করেছিল। এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। বেশির ভাগ আসামি এখনো পলাতক।
২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র ও জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মোমিনকে কলেজে যাওয়ার পথে তাদের উত্তর ইব্রাহিপুর বাসার কাছে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওসি রফিক সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযোগ করে কাফরুল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন মোমিনের বাবা আবদুর রাজ্জাক। মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম রফিকুল ইসলামসহ ২৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।
২০০৭ সালের ১৩ মে ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এর বিরুদ্ধে বাদি নারাজি আবেদন দিলে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। তাতেও বাদি আপত্তি জানালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। এ আদালতই বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় দেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.