পূর্বাচলে ১৪২ তলা ভবন নির্মাণে দুই কোম্পানির আগ্রহ

তিন মাসেও টেন্ডার মূল্যায়ন হয়নি
হামিম উল কবির

পূর্বাচল নতুন শহরের প্রস্তাবিত ১৪২ তলা ভবন ধীরে ধীরে কল্পনা থেকে বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। তবে টেন্ডার মূল্যায়নে ধীর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও মূল্যায়নে কোনো অগ্রগতি নেই।
প্রস্তাবিত দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চতম টাওয়ারটি নির্মাণের শুরুতে আমেরিকাভিত্তিক কেপিসি গ্রুপকে দেয়ার জন্য প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার এটি নির্মাণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশে^র দুই বৃহৎ কোম্পানি টেন্ডার জমা দেয়। একটি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ড. কালি প্রদীপ চৌধুরীর কেপিসি গ্রুপের নেতৃত্বে তিনটি কোম্পানি। অন্যটি জাপানের কাজিমা করপোরেশনের নেতৃত্বে দুই কোম্পানি টেন্ডারে অংশ নিয়েছে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এ আইকোনিক টাওয়ার নির্মাণ বিষয়ক রাজউকের মুখপাত্র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও পূর্বাচল প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিক জানিয়েছেন, ‘শিগগিরই টেন্ডার মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তুতি রয়েছে।’
জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর টেন্ডার জমা দেয়া হলেও এখনো টেন্ডার মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। রাজউকের সদস্য উন্নয়নকে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সদস্য উন্নয়নের পদটি খালি রয়েছে। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। সম্প্রতি তাকে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে বদলি করে দেয়ায় তিনি তার নতুুন কর্মস্থলে যোগ দিলে সদস্য উন্নয়নের পদটি খালি হয়ে যায়। এ পদটিতে সদস্য পরিকল্পনাকে দায়িত্ব দেয়ায় তিনি দু’টি দায়িত্ব একই সাথে পালন করায় প্রস্তাবিত ১৪২ তলা ভবনের টেন্ডার মূল্যায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন রাজউকের অনেক কর্মকর্তা।
রাজউক থেকে জানা গেছে, পূর্বাচলের সেন্ট্রাল ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে তৈরি হবে ১৪২ তলা ভবনটি। এর সাথে নির্মাণ হবে ৭৩ হাজার সিটের ‘স্টেট অব আর্ট’ ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং একটি গলফ কোর্স। মূল ভবনটির উচ্চতা হবে ৭৩৪ মিটার। এর পাশেই গড়ে উঠবে ৪০০ মিটার উচ্চ একটি টুইন টাওয়ার। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার মাত্র ৮৮ তলা। পাঁচটি গ্রাউন্ড ফোরসহ এর উচ্চ ৪৫১.৯ মিটার।
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত জুলাই মাসে বাজেট অধিবেশনে ভবনটি নিয়ে সংসদে কথা বলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বৃহৎ এ ভবনটি নির্মাণ করতে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে তিন শ’ কোটি (তিন বিলিয়ন) ডলার। পূর্বাচলের ১০০ একর জায়গার মধ্যে ভবনটিসহ আরো অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করা হবে।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, কেপিসি গ্রুপের সাথে এ্যারাবিয়ান কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজ ইনকরপোরেশন এবং নাদেল কনসোরটিয়াম টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। জাপানের কাজিমা করপোরেশনের সাথে স্থানীয় কোম্পানি কনসোর্টিয়াম অব পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড টেন্ডারে অংশ নিয়েছে।
নির্মাণ শিল্পে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ দুই কোম্পানির একটি এক একর জমির জন্য ৩০ কোটি ২৫ লাখ ১০০ টাকা দাম দেবে বলে টেন্ডারে উল্লেখ করেছে এবং অন্য কোম্পানি এক একর জমির জন্য ৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা দাম দেবে। অর্থাৎ ১০০ একর জমির জন্য দুই কোম্পানির মধ্যে দামের পার্থক্য মাত্র ১০ হাজার টাকা।
কবে টেন্ডার মূল্যায়ন হবে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান এ ব্যাপারে কিছুই জানা নেই বলে গত রাতে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, এটি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির প্রধান জানবেন। তবে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির কাউকে পাওয়া যায়নি মন্তব্য করার জন্য।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.