বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দুই দিনে দুই কোটি টাকার স্বর্ণ পাচার

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে দুই দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার স্বর্ণ পাচার হয়েছে। গত সোমবার দেড় কেজি স্বর্ণসহ রাজ কুমার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ভারতীয় কাস্টম। এর আগে প্রায় সাড়ে চার কেজি স্বর্ণসহ আরো এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বন্দরের সহকারী কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ইনকামিং যাত্রীদের চেক করি। আউট গোয়িং যাত্রীদের চেক করা হয় না। আর এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
বুড়িমারী কাস্টম ও বন্দর ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাজ কুমার নামে এক ভারতীয় নাগরিক বুড়িমারী ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেলে চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টম দেড় কেজি স্বর্ণসহ তাকে আটক করে। আটককৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজ কুমার ভারত থেকে প্লেনে বাংলাদেশে আসেন এবং ভারত যান বুড়িমারী বন্দর দিয়ে। ভারতের পানিশালায় তার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। এর আগে গত ২১ নভেম্বর আরো এক ব্যক্তিকে সাড়ে চার কেজি স্বর্ণসহ আটক করে চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টম। ওই ব্যক্তিও পাসপোর্টধারী যাত্রী ছিল। বুড়িমারী বন্দর দিয়ে তিনি ভারতে যান। আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার নামঠিকানা জানা না গেলেও ভারতের কুচবিহারে তার বড় ভাই উত্তম কুমারের স্বর্ণের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বুড়িমারী বন্দরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় পাচারকারীরা স্বর্র্ণ পাচার করছে। শুধু তা-ই নয়, এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় ভারত থেকে দামি কাপড়ও বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। গত ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় কাপড় ব্যবসায়ীরা দামি কাপড় ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসত এই সিন্ডিকেটের সহায়তায়। পুলিশ ইমিগ্রেশন ওসি আনোয়ার ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমরা ভারতীয় কাস্টমের কাছে জানতে চেয়েছি, কিন্তু তারা আমাদের কোনো কিছু জানায়নি। কাস্টমের রাজস্ব কর্মকর্তা বিপ্লব সিনহা বলেন, আমি নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।
বন্দরের সহকারী কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান গত বুধবার পরপর দু’টি স্বর্ণ পাচার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ল্যানড পোর্ট দিয়ে বহির্গমন যাত্রীদের চেক করা আমাদের রেগুলার ডিউটির মধ্যে পড়ে না। এয়ার পোর্টে আউট গোয়িং যাত্রীদের চেক করা হয় না। আমরা শুধু ইনকামিং যাত্রীদের চেক করি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.