ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু :নয়া দিগন্ত
ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু :নয়া দিগন্ত

ফুলবাড়ীতে দ্বিতীয় ধরলা সেতুর ৯৫ ভাগ নির্মাণকাজ সম্পন্ন : উদ্বোধন এ মাসেই

রেজাউল করিম রেজা কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কুলাঘাট এলাকায় দ্বিতীয় ধরলা পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজের ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৮ মিটার প্রস্থ এ সেতুর কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে অবশেষে নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এজিএম সাধন কুমার পাল জানান, নদীশাসনসহ সেতুর সার্বিক কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এখন শুধু রঙ, জয়েন্ট, সামান্য কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে, যা এ সপ্তাহেই শেষ হবে। এ মাসেই সেতুটি যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ জানান, মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৩ কোটি ৭২ লাখ ৫৬ হাজার ৯০৬ টাকা। এ ছাড়া ফুলবাড়ী অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ৪ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ৮১৫ টাকা ও লালমনিরহাট অংশে ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫২ টাকা। নদীশাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ও সেতু বিদ্যুতায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা। এই সেতুতে স্প্যানের সংখ্যা ১৯টি ও পিলারের সংখ্যা ১৮টি।
সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের পথ কমবে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। এ চার উপজেলার মানুষের দ্রুত যাতায়াতের সুবিধাসহ প্রসার ঘটবে ব্যবসাবাণিজ্যের। কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলার মানুষকে এখন অতিরিক্ত ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াতসহ ব্যবসাবাণিজ্য চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ষষ্ঠি চন্দ্র সেন জানান, সেতুটি নির্মিত হওয়ায় ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষের লালমনিরহাট, রংপুর কিংবা ঢাকার সাথে যোগোযোগের দুই ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে।
নৌকায় নদী পার হতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও ব্যবসায়ী সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। সেতুটি যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হলে সব ক্ষেত্রেই সুবিধা ভোগ করবে এ অঞ্চলের মানুষ।
ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজির হোসেন বলেন, এ তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি দ্বিতীয় ধরলা সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসেই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, সেতুটি যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হলে দেশের সীমান্ত ঘেঁষা জেলার ও ভারতের সীমান্ত লাগোয়া তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর থেকে খুব সহজেই কয়লা পাথরসহ অন্য পণ্যসামগ্রী দেশের যেকোনো প্রান্তে সাশ্রয়ে পাঠাতে পারবেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। এতে করে খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
সেতু বাস্তবায়নকারী স্থানীয় সরকার বিভাগ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ জানান, দ্বিতীয় ধরলা সেতু নির্মাণকাজের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, এ মাসেই সেতুটি যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়া হবে।
সেতুটি অবমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই কুড়িগ্রামে আসবেন বলে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর আলীসহ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.