নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ

রয়টার্স

শতাব্দীপ্রাচীন রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি ও মাওবাদী গেরিলাদের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গণতন্ত্রে উত্তরণের দশককাল চেষ্টার সমাপ্তি টানতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে গতকাল দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছে নেপালের জনগণ।
বৃহস্পতিবার সকালে দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ২৬ নভেম্বর এ নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। দুই দফার ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
তবে ভোট গণনার জটিল পদ্ধতির জন্য ফল ঘোষণায় ১০ দিনের মতো লেগে যেতে পারে বলে দেশটির নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। এবারের নির্বাচনে মোট দেড় কোটি ভোটার পার্লামেন্টের ২৭৫ জন সদস্যকে নির্বাচিত করছেন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন, বাকিরা নির্বাচিত হবেন সংখ্যানুপাতিক ভোটে।
২০১৫ সালে প্রণীত গণতান্ত্রিক সংবিধান অনুযায়ী হওয়া এ ভোটে প্রথমবারের মতো নেপালিরা তাদের দেশের সাতটি প্রদেশের প্রতিনিধিও নির্বাচিত করবেন। নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি এক বিবৃতিতে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন, নির্বাচনের পর দেশ স্থিতিশীলতা অর্জনে সম হবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।
গত কয়েক বছরে অন্তত ১০ বার দেশটির সরকার পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটিতে দুর্নীতির পরিমাণও বেড়ে গেছে, আর ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাত্রা নি¤œমুখী হয়ে আছে।
এসব সঙ্কট কাটিয়ে এবারের নির্বাচন হিমালয় কোলের দেশটিতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে, এমনটিই আশা করছেন দেশটির ভোটাররা। নির্বাচনে মধ্যপন্থী নেপালি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ বাম দলগুলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেপালি কংগ্রেসের এই জোটে রাজতন্ত্রপন্থীদের সাথে দণিাঞ্চলের মাধেসি পার্টিও আছে। অন্য দিকে সর্বশেষ পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল কমিউনিস্ট (ইউএমএল) পার্টির সাথে জোট বেঁধেছে মাওবাদীরা। তাদের সাথে আছে ছোট ছোট আরো কয়েকটি বামদল।
নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার দল নেপালি কংগ্রেসের সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠতা সুবিদিত, অন্য দিকে মাওবাদীরা চীনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
দিল্লি ও বেইজিং উভয়েই নেপালের পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ভৌগোলিক অবস্থান থেকে সুবিধা নিতে চাওয়ায় আঞ্চলিক রাজনীতিতেও এ নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটির তিন কোটি নাগরিকের দৈনিক আয় দেড় শ’ টাকার নিচে। এদের অনেকেই এখনো ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তিই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ৮ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ২০ হাজার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.