ফিলিস্তিনে নতুন ইন্তিফাদা ঘোষণা

আলজাজিরা ও মিডলইস্ট আই

ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুনভাবে ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ বা হামাস নামে পরিচিত স্বাধীনতাকামী সংগঠন। পবিত্র ভূমি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতির পর বৃহস্পতিবার হামাসের প থেকে এ ধরনের ঘোষণা আসে।
হামাসের একজন নেতা ইসমাইল হানিয়া গাজায় দেয়া ভাষণে জানান, ইহুদি শত্রুর মোকাবেলার জন্য আমাদের ইন্তিফাদা ঘোষণা করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত। সংগঠনটি বলছে, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলেছেন। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া’ ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠন পিএলও। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ট্রাম্পের পদপেকে ‘মরণ কামড়’ আখ্যা দিয়েছে।
ইসমাইল বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইতিহাস ও ভূগোল পাল্টে যাবে না। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
হামাস বলেছে, ট্রাম্প বাইতুল মুকাদ্দাসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করেছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘জেরুসালেমকে রার নতুন ইন্তিফাদায় অংশ নিতে শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এই ইন্তিফাদায় বিজয়ের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হামাসের সব ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান হামাস নেতা।
এর আগে দু’টি বড় ধরনের ইন্তিফাদার ডাক দিয়েছিল ফিলিস্তিন। প্রথম ইন্তিফাদা ছিল ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। তখন এটি ছিল মূলত একটি অসহযোগ আন্দোলন এবং গেরিলা প্রতিরোধ। ইসরাইল যেভাবে এই ইন্তিফাদাকে প্রতিহত করেছিল, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন তিন শব্দে তা ব্যাখ্যা করেছেন। ওই তিন শব্দ হচ্ছে, ‘জবরদস্তি, শক্তি এবং আঘাত’।
প্রথম ইন্তিফাদা চলাকালে শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। ইচ্ছা করেই বহু মানুষকে পঙ্গু করে দেয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন হাজার হাজার মানুষ।
সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন কয়েক হাজার সেনা নিয়ে জেরুসালেমের পুরনো শহর (ওল্ড সিটি) এবং মাসজিদুল আকসা ভ্রমণ করতে দ্বিতীয় দফায় ইন্তিফাদা শুরু হয়। ২০০০ সালে শুরু হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকে।
প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনিরা ব্যবহৃত টায়ার থেকে নেয়া রাবারের চাকতিতে একটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে একধরনের টায়ার ছিদ্রকারী যন্ত্র উদ্ভাবন করে। পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর প্রধান সড়কগুলোতে এ যন্ত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়।
ইসরাইলের ধারণা ছিল, ফিলিস্তিনিদের বিােভ-প্রতিরোধ অকার্যকর হয়ে পড়বে। কিন্তু আদতে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আর হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আরো বেগবান হয়।
মূলত ইন্তিফাদার মাধ্যমেই প্রতিবেশী কোনো আরব দেশের সহায়তা ছাড়া দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমর্থ হন ফিলিস্তিনিরা। ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, হত্যাকাণ্ডের মুখেও ফিলিস্তিনিরা ওই প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে পিছু হটেনি। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে সম হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.