ফরহাদ মজহারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক

কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির মামলায় বাদি ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল এ মামলার বাদি আদালতের নির্দেশক্রমে চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেবে কি দেবে না সে মর্মে তার উপস্থিতির জন্য দিন ধার্য ছিল। সে মতে এ দিন তার আইনজীবী তাকে নিয়ে ঢাকার সিএমএম ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলমের আদালতে হাজির হন। তার আইনজীবী নারাজি দেয়ার বিষয়ে আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আগামী ৯ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এরপর বিকেলে বাদির আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবদীন মেজবাহ জানতে পারেন ওই সময়ের আবেদন আবার নামঞ্জুর করে উল্টো বাদির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ জয়নাল আবদীন মেজবাহ জানান, সকালে তিনি আদালতের কাছে গোয়েন্দা পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাদির পক্ষে না আসায় বাদি নারাজি দরখাস্ত দেবেন মর্মে সময়ের আবেদন করেন। আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে বিকেলে তিনি জানতে পারেন, সে আবেদন নামঞ্জুর করে বাদির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি বলেন, আদালত হলো মানুষের শেষ আশ্রয়ের স্থল সেখানে যদি ন্যায়বিচার না পায় তাহলে মানুষ আদালতের প্রতি আস্থা হারাবে। এটা বিচার বিভাগের জন্য অশনি সঙ্কেত।
কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বলেছেন, ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে যে মামলা করা হয়েছে তার সঠিক তদন্ত হয়নি। মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে এর মূল রহস্য উদঘাটন হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে যে মামলা করা হয়েছিল সেটিতে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও হয়রানির অভিযোগ দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই ভোরে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরে স্ত্রীকে নিজের মোবাইল ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতেই স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদি হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.