সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি

রসিক নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) আসন্ন নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল রিজভী বলেছেন, সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বারবার আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও ইসি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা পুরো এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে বলেও প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে শুরু থেকে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা আবারো নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পেছনের দরজা দিয়ে জেতানোর কোনো চেষ্টা করলে জনগণ সেটির উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি রসিক নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না।
তিনি বলেন, রসিক নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ এখনো তৈরি করতে পারেনি ইসি। নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে ভোটাররা এখনো ভয়ভীতির মধ্যেই রয়েছেন। এমন অবস্থায় রংপুর সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের মানসিকতা স্বাধীন না হলে কমিশনের আইনি স্বাধীনতা কোনো কাজে আসে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিজভী দুদকের সমালোচনা করে বলেন, বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিষয়টি জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরই সেটি এড়িয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭টি মামলা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা বারবার ব্যাংক লুটপাটে জনগণের অর্থ আত্মসাতের কথা জাতির সামনে তুলে ধরলেও ক্ষমতার প্রভাবে সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আমরা বারবার যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিলাম তা ছিল তথ্যমূলক। সর্বমহলে একটি কথা রটনা আছে-সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকদের আত্মীয়স্বজনেরা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত। শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সব আর্থিক খাতে যে লুটপাট হয়েছে এর পেছনে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত। ব্যাংক লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেলেও দুদক এসব বিষয়ে নির্বিকার। কিন্তু জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। লুটেরাদের একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।
গুমের সর্বশেষ শিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সারা দেশে নিখোঁজ অর্থাৎ গুম আতঙ্ক থামছেই না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আজ কেউই নিরাপদ নয়। এবার রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এ ঘটনায় তার মেয়ে ধানমন্ডি থানায় ডায়েরি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সারা দেশে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত নিখোঁজের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এটি। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলে তার আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, যেটি হবে প্রকাশ্য নিয়মমাফিক পদ্ধতিতে। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে অদৃশ্য করে দেয়া হলে তা হবে ভয়ঙ্কর অপরাধ। বর্তমানে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় এসব গুম সংঘটিত হচ্ছে, যা ক্ষমাহীন ও মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ।
তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অনেক মানুষের খোঁজ মিলছে না। এসব ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ করছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের লোকরাও তাদের প্রশ্ন করলে সেটির কোনো উত্তর দেন না, তাদের যেসব দরকার ল্যাপটপ-কম্পিউটার নিয়ে যান। সে লোক যদি অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে গুম করছেন কেন, লুকিয়ে রাখছেন কেন? অপরাধ প্রকাশ্যে জানান দিন। জনগণ বিশ্বাস করে যে, সরকারের অশুভ ইচ্ছাপূরণে এই বেআইনি গুমগুলো করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দেিণর সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহসভাপতি নবীউল্লাহ নবী, আরিফুল ইসলাম আরিফ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, এম এ হান্নান এবং যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের রিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি জানান রিজভী।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.