ইকোনমিক করিডোর নির্মাণে সহযোগিতা করছে না মিয়ানমার : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে চীন সবচেয়ে বড় অংশীদার উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ রাস্তা নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী। এ রাস্তা নির্মাণের জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা দরকার। কিন্তু মিয়ানমার সরকার এ সহযোগিতা করছে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চায়।
গতকাল রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতার কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদল তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ প্রমুখ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি, আমরা এক চীন নীতির সম্পূর্ণ পক্ষে। তিব্বত ও তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। সেতুমন্ত্রী বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেভাবে দৃঢ় হচ্ছে তাতে অচিরেই আওয়ামী লীগের সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হয়ে বাংলাদেশী জনগণের সাথে চীনা জনগণের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব জল্পনা কল্পনার অবসান করে সাহসিকতার সাথে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহণ করেন। চীনের চায়না মেজর ব্রিজ এবং চায়না সিনো হাইড্রো কোম্পানি এ সেতু নির্মাণের কাজ পায়। আমরা অত্যন্ত খুশি যে, স্পেয়ারের ওপর স্প্যান স্থাপন করেছি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। তিনি বলেন, অষ্টম চায়না ব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নবম চায়না ব্রিজ নির্মাণে চীনের সহযোগিতা পেতে যাচ্ছি। এ ব্রিজ দেশের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের জন্য চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে ইতোমধ্যে চীনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.