সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম দেখতে টিম গঠন করা হবে : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার (জিআইজেড) সাথে কমিশনের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সরকারি ও বেসরকারি সব সংস্থায় নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি বিশেষ সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হবে। এই টিমের সদস্য কারা থাকবেন তা কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কেবল চেয়ারম্যান জানবেন এবং এই সার্ভিলেন্স টিম কমিশনের প্রধান নির্বাহীর কাছে প্রতিবেদন দেবে। এসব প্রতিবেদনে যেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার নাম থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, দুদকসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কুখ্যাতি রয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
মতবিনিময় সভায় কমিশনের ছয়টি অনুবিভাগের মহাপরিচালকরা ২০১৭ সালের কর্মকৌশল অনুসারে বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং ২০১৮ সালের সম্ভাব্য কর্মকৌশল তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো: শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো: জাফর ইকবাল, মো: মঈদুল ইসলাম, মো: আসাদুজ্জামান, মো: আতিকুর রহমান, মো: মোস্তাফিজুর রহমান, জিআইজেডের কনসালট্যান্ট রিচার্ডস মাইলস, জেরি ওজবোর্ন, কৃষ্ণা চন্দ, মো: আলী রেজা প্রমুখ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে চেয়ারম্যান বলেন, কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা কাক্সিত মাত্রায় থাকলে কিভাবে দুদকের মামলার আসামিরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে, মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়? কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য গাড়ি, সশস্ত্র পুলিশ সবই রয়েছে, কেবল উদ্যোগের অভাবেই আসামিরা ঘুরে বেড়ায়। এর দায়িত্ব অবশ্যই কর্মকর্তাদের নিতে হবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে কমিশন। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সততা সঙ্ঘ, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যমসহ ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার অনৈতিক কার্যক্রমের কাছে দেশের শিক্ষা জিম্মি থাকতে পারে না। তাদের কারণেই দেশ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। আমরা সম্মিলিতভাবে শিক্ষকদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চাই।
জিআইজেডের কনসালট্যান্টদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা শনাক্ত করুন এবং তাহলে কমিশন উপকৃত হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.