বিএনপি নাকে খত দেবে না, সরকারই বাধ্য হবে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাকে খত দিয়ে নয়, সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই বাধ্য হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানের পর রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেেিত নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না। বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সারা দেশের জনগণের কথা।
কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে গতকাল গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আপনরা নিশ্চয় ল করেছেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এ প্রশ্ন এসেছে যে এটা (নির্বাচন) সবচেয় বড় সঙ্কট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপে একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করাÑ এ প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দাম্ভিকতা দিয়ে তো ভবিষ্যতে দেশ শাসন চলবে না। দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, যে কথাটা আমরা বার বার বলেছি, আমরা সঙ্ঘাত চাই না, আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। এবারের নির্বাচন যাতে সত্যিকারার্থে নির্বাচন হয়, শান্তিপূর্ণভাবে মতা হস্তান্তর সম্ভব হয়, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমরা চাচ্ছি, জনগণ সেটাই চাচ্ছে।
তিনি বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এ দিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাক্সা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।
বিএনপির সাথে কোনো সংলাপে রাজি নন, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) দায়। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা যিনি সরকারে থাকেন তার প্রধান দায়। নির্বাচন করবেন কী করবেন না, নির্বাচন হবে কী হবে না এটার দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে মা চাইতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মা চাওয়ার ব্যাপার জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। গত ৮-৯ বছর ধরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের ওপর তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং এতে তারা সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সে েেত্র মা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে। সে জন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন, তার ওপরে, তার দলের ওপরে এবং দেশের মানুষের ওপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত প থেকে মা করে দিয়েছেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.