তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের টাকাটুকিয়ায় সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে  :নয়া দিগন্ত
তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের টাকাটুকিয়ায় সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে :নয়া দিগন্ত

বারবার টেন্ডার হলেও সংস্কার হয়নি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক

সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্র্ণ তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের দুর্ভোগ থেকে আজো মুক্তি পায়নি উপজেলাবাসী। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও এ সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য গত ২৩ বছরে একাধিকবার টেন্ডার দিলেও কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা গেছে। আর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষ। অথচ এ উপজেলা থেকে প্রতি বছর সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয় করছে।
গত কয়েক বছরে বন্যায় এ সড়কের চারটি স্থানে বড় বড় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন উপজেলাবাসীর কাছে মারণফাঁদ হয়ে দঁাঁড়িয়েছে। লিখিতভাবে ঊর্ধŸতন কর্মকর্তাদের বারবার জানানোর পরও কোনো সুফল মিলছে না। উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট ইউনিয়নের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। আর উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাদাঘাট বাজার ছাড়াও উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন, তিনটি শুল্ক স্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি কলেজ ও ছোট ছোট শতাধিক গ্রামে যাতায়াতের এটিই একমাত্র সড়ক। এ সড়কে ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ভালোমানের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এমনকি রিকশা, টমটম, ঠেলাগাড়ি ও মোটরসাইকেল চলতে গিয়েও প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। ১১ বছর আগে এ সড়কের উন্নয়নের জন্য টাকাটুকিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু ও পাতারগাঁওয়ের সামনে অপরিকল্পিতভাবে ছোট ছোট তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে ছোট তিনটি সেতুকে আবার একত্রে যুক্ত করা হয়। সেই সেতুর দুইপাশের সংযোগ মাটি ও পাতারগাঁওয়ের পূর্ব দিকে সড়কের দু’টি স্থানে ও সূর্যেরগাঁওয়ের কিছু অংশে মাটি সরে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও এ সড়কের পাতারগাঁও থেকে বাদাঘাট যাওয়ার রাস্তাটিও ভাঙাচোরা। অন্য দিকে এ সড়কের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংযোগ রাস্তাটি নিচুু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় ডুবে যায়। এত জরুরি ভিত্তিতে কোনো রোগীকে যানবাহনে করে হাসপাতালে আনা-নেয়া করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালে এলজিইডি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে প্রতি বছর সংস্কার করার পর বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে আট বছর আগে ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত সড়কের ছয় কিলোমিটার পাকা করা হয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে। এতে করে লোকজন কোনো রকমে চলাচল করলেও মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
ডা: হাফিজ উদ্দিন ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ ও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটির একাধিক স্থানে ভাঙনের ফলে চলাচলে দুর্ভোগ পোহচ্ছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্যসহ লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ভাঙনের কারণে চারটি ইউনিয়নের লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চলাচলের স্বার্থে এ সড়কটি গুরুত্ব সহকারে সংস্কার করা খুবই জরুরি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.