দুই মাস না যেতেই শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়ক কেটে কালভার্ট নির্মাণ : জনদুর্ভোগ চরমে

বোরহান উদ্দিন রব্বানী শরীয়তপুর

শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করার দুই মাস পার না হতেই মহাসড়কের তিনটি স্থানে মহাসড়ক কেটে কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে ওই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ ও এলাকাবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়ক বিভাগের দাবি এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়ক কেটে ইরিগেশনের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।
শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার আঙ্গারিয়া বাজারের ওপর দিয়ে ১৯৮৭ সাল থেকে শরীয়তপুর-মাদারীপুর সড়ক পথে যাতায়াত শুরু হয়। এর পর ২০০০ সালে চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক পথে সহজ যোগাযোগের জন্য শরীয়তপুরের হরিণাঘাট দিয়ে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে একটি মহাসড়ক চালু করা হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ সড়কের আঙ্গারিয়া বন্দর বাজারের ওপর দিয়েই সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়কের আঙ্গারিয়া ব্রিজ থেকে মনোহর বাজার পর্যন্ত দুইটি ব্রিজ ও তিনটি কালভার্ট ব্রিজসহ বাইপাস মহাসড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। দুইটি ব্রিজ ও তিনটি কালভার্ট ব্রিজসহ এক হাজার ৩৬৭ মিটার সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৮ কোটি টাকা। টেন্ডার আহ্বানের পর এ বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ পায় মাদারীপুরের মাইনুদ্দিন বাসী নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটি দুই লেনবিশিষ্ট প্রকল্প এবং তিনটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের কথা থাকলেও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে তিনটি কালভার্ট ব্রিজ বাদ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়। একটি সূত্র জানায়, তিনটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ না করায় এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত আসে। এর পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন করে তিনটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর পর এ তিনটি কালভার্ট ব্রিজের কাজ পায় নাসিম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মহাসড়কটি চালু করার পর দুই মাস অতিবাহিত না হতেই এ মহাসড়কের মনোহর বাজারসংলগ্ন, সিকদার বাড়ি মোড় ও আঙ্গারিয়া বড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়ক কেটে তিনটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে এ সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাস্তায় ব্যারিকেড না দেয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় ফারুক সরদার বলেন, শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়কের আঙ্গারিয়া বড় ব্রিজ থেকে মনোহর বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটি দিয়ে মাত্র দুই মাস আগে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এ নতুন সড়ক কেটে আবার কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা দেয়া ছাড়া আর কিছুই হবে না।
মাদরাসাছাত্র মাহদি হাসান, আবু বকর সিদ্দিক ও ইমন বলেন, নতুন রাস্তাটি হঠাৎ করে কেটে ফেলায় স্কুল কলেজ ও মাদরাসা ছাত্রছাত্রীদের ঘুরে যেতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাইপাস মহাসড়কটির নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিনটি কালভার্ট ব্রিজ বাদ দিয়ে দুই লেনবিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইরিগেশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নতুন করে তিনটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত দেয়। সে মেতাবেক কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি মনিটরিং টিম আসে। তারা ইরিগেশনের জন্য তিনটি কালভার্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত দেয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.