গত বোরো মওসুমে এভাবে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ফসল ডুবে যায় : নয়া দিগন্ত
গত বোরো মওসুমে এভাবে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ফসল ডুবে যায় : নয়া দিগন্ত
নির্ধারিত সময় শেষ : ফসলহানির শঙ্কায় কৃষকেরা

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন হয়নি

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এখনো গঠন করা হয়নি। ৩০ নভেম্বর ছিল প্রকল্প কমিটি গঠনের শেষ তারিখ। জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লাসহ ১১টি উপজেলার ৩৬টি বৃহত্তর হাওরে ১৭টি উপপ্রকল্পসহ মোট ৫৩টি হাওরের ৯১৪ পিআইসি গঠন করার কথা; কিন্তু অদ্যাবধি তা হয়নি। ফলে এ অঞ্চলে লাখ লাখ কৃষক উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে রয়েছেন। এবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পিআইসি কমিটি গঠন করার কথা; কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প কমিটি গঠন হয়নি।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, পাউবোর সুনামগঞ্জ (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) বিভাগ-১-এর অধীনে উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪০টি ও অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের ৩৭২টি, বিভাগ-২-এর অধীনে উন্নয়ন খাতের ২৩১ ও অনুন্নয়ন খাতে ২২০টিসহ মোট ৯১৪ পিআইসি গঠন করার কথা। উন্নয়ন খাতে পিআইসি হবে সুনামগঞ্জ পওর ১-এর অধীনে সদর উপজেলায় ৩টি, অনুন্নয়ন বাজেটে ৪৭টি। বিশ্বম্ভরপুর উন্নয়নে ১১টি, অনুন্নয়নে ২২টি। তাহিরপুরে উন্নয়নে ৩৩টি, অনুন্নয়নে ৭৫টি। জামালগঞ্জে উন্নয়নে ২১টি, অনুন্নয়নে ১০৬টি। ধর্মপাশায় উন্নয়নে ৭২টি, অনুন্নয়নে ৭৭টিসহ মোট ৪৬৭টি। সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ ২-এর অধীনে পিআইসি হবে দিরাইয়ে উন্নয়নে ৪০টি, অনুন্নয়নে ৭০টি। শাল্লায় উন্নয়নে ৮৪টি, অনুন্নয়নে ৫২টি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উন্নয়নে ৩২টি, অনুন্নয়নে ২৭টি। জগন্নাথপুরে উন্নয়নে ৩৪টি, অনুন্নয়নে ৪৮টি। ছাতকে উন্নয়নে ৯টি, অনুন্নয়নে ৩টি ও দোয়ারাবাজারে উন্নয়নে ৩২টি, অনুন্নয়নে ২০টিসহ মোট ৪৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে এবার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
জানা গেছে, আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পিআইসির সভাপতি হতেন। পাঁচ সদস্যের পিআইসিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোনীত তিনজন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনীত একজন কমিটির আওতাভুক্ত হতেন। অনেক ক্ষেত্রে সদস্য মনোনয়নে বিলম্বের কারণে পিআইসি গঠন ও বাঁধের কাজ শুরু হতে দেরি হতো। এবার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী হাওরপাড়ের কৃষকদের দিয়েই পিআইসি গঠন করা হবে। পিআইসির সদস্য সংখ্যা হবে পাঁচ থেকে সাতজন। কমিটিতে একজন সভাপতি একজন সদস্যসচিব ও অন্যরা সদস্য হবেন। বাঁধের পাশের জমির প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিআইসি গঠন করবেন। প্রয়োজনে ভূমি অফিস, কৃষি অফিস ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরামর্শ করবেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একাধিক পিআইসির সভাপতি বা সদস্য হতে পারবেন না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। জামালগঞ্জের কৃষক সাজিদুর রহমান ও নবাব মিয়া বলেন, ‘গেল বছর পাকার আগেই সব ধান পানিতে তলাইয়া গেছে, কোনো রকম বাঁইচা আছি। এহন হাওরের পানি কমে না, বীজ ধান সঙ্কট হের লাগি। জমি রোয়া (বপন করা) পিছাইয়া যাইতাছে, ধান কাটাও পিছাইবো। এবারও যদি সময়মতো ঠিকঠাকভাবে হাওরের বাঁধ নির্মাণ করা না হয়, তাহলে আমরার দুঃখের শেষ থাকবে না। গত বছর চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবার হতে চাই না।’ দ্রুত পিআইসি গঠন করে বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানান কৃষকেরা।
সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, জেলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব শিগগিরই জামালগঞ্জের সব পিআইসি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সুনামগঞ্জ পাউবোর বিভাগ পওর ১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকি ভূঁইয়া ও পওর বিভাগ ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পিআইসি গঠন করার কথা। শিগগিরই পিআইসি গঠনের তালিকা পেয়ে যাবো। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দ্র দেব জানান, পিআইসি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সবার সাথে বসে পিআইসি গঠন করাসহ সব কাজ সমাধা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, এবার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য পিআইসি গঠনসহ সব কাজ সময়মতো করতে যা করা প্রয়োজন তা করা হচ্ছে। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন, জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শিগগিরই করা হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.