বিজয়ের পোশাক : রঙের ঝলক

এ কে রাসেল

বাঙালির চেতনার রঙ লাল-সবুজ। আমাদের বিশেষ দিবসগুলোতে লাল-সবুজ যেন নতুন করে সাজে। প্রকৃতি ও বাঙালির মনে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো বিজয়ের মাসেই বাঙলিয়ানায় লাল-সবুজের পোশাকের সমারোহ ঘটে। স্বাধীনতার পর থেকেই লাল-সবুজের পোশাকের ব্যবহার হয়ে এলেও ২০০০ সাল থেকে এর পরিসর ব্যাপক। এর কারণ হচ্ছেÑ আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো শুধু বাণিজ্যিক বিবেচনায়ই এগিয়ে নেই, এগিয়ে রয়েছে চেতনায়ও। আমাদের দেশীয় ফ্যাশনে এক যুগ ধরে স্বকীয়ভাবে স্বদেশী চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছে। আর এ চিন্তাধারার সূত্র ধরেই পয়লা বৈশাখ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। এবারের বিজয় দিবস ও এর ব্যতিক্রম নয়। বিজয় দিবসে ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেছেন সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমান। তিনি জানান, একটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করার সুবাদে বিশেষ রঙের পোশাক ফটোগ্রাফির মাধ্যমে গণমাধ্যমে তুলে ধরি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই লাল-সবুজের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন হাউজগুলো উৎসাহ দেখায়। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবোধকে তুলে ধরতে ফ্যাশন হাউজগুলো রাখছে অনন্য ভূমিকা। ফ্যাশন হাউজ নিত্য উপহার প্রথম বিশেষ দিবসে বিশেষ পোশাকের আয়োজন করে। এবারের বিজয় দিবসেও। দেশী তাঁত, খদ্দর আর মোটা সুতি কাপড়ের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। লাল-সবুজ রঙের পাঞ্জাবি, ফতুয়া টিশার্ট মেয়েদের শাড়ি, থ্রি পিস, শালসহ শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পোশাক। দেশীয় সংস্কৃতির এ আয়োজন করেছে দেশের বেশ কিছু স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউজ। এর মধ্যে রয়েছে আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, নগরদোলা, কে ক্রাফ্ট, সাদা কালো, ওজিসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।
বিজয় দিবসের আয়োজন উপলক্ষে রঙ বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনার ও কর্ণধার সৌমিক দাশ জানান, ‘ট্র্যাডিশনাল পোশাকেই সাজানো হয়েছে বিজয় দিবসের সংগ্রহ। বিশেষত স্ক্রিনপ্রিন্ট করা শাড়ি আর পাঞ্জাবি এ কালেকশনের মূল আকর্ষণ। সুতি ও হাফসিল্ক শাড়িতে ১৯৭১ সালের বিজয়ের ছবি দিয়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়েছে এবং আঁচলে মূল ছবিটাকে ফ্রেমে বেঁধে তুলে ধরা হয়েছে। ’
একই থিম ব্যবহার করে ফ্যাশন হাউজগুলো সাজিয়েছে বিজয় উৎসবের পসরা। যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেল বিজয়ের আনন্দের রঙে সাজানো সিঙ্গেল কামিজ। সিঙ্গেল কামিজে সবুজের শেড ও লাল দিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্যাটার্নে ভিন্ন ভিন্ন কাটিং ব্যবহার করা হয়েছে। থ্রি পিসে লাল ওড়নাকে পতাকার আদলে তৈরি করা হয়েছে। ড্রেস ও পায়জামায় সবুজের শেডে কাজ করা হয়েছে। চিরায়িত শাড়ির ফ্যাশনেও লেগেছে বিজয়ের হাওয়া। যেহেতু শীত, তাই একরঙা শাড়ির সাথে অনেকেই বেছে নেন লাল-সবুজ একটি শাল। তবে লাল-সবুজ শাড়ি পরতে না চাইলেও একরঙা শাড়ির সাথে লাল-সবুজের সংমিশ্রণে ব্লাউজ পরেন।
এবারের বিজয় উৎসবে প্রিন্টেড ডিজাইনের চাহিদাই বেশি। শাড়ি করা হয়েছে ট্র্যাডিশনাল আদলে। উৎসবের আমেজে পূর্ণতা দিতে লাল-সবুজ পোশাকের পাশাপাশি কাচের চুড়ি বা বড় লাল টিপ পরতে পারেন। আর শাড়ি পরতে নারাজ নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নিতে পারেন লম্বা কুর্তা। এ ক্ষেত্রে উঁচু গলা ও লম্বা হাতা মানানসই হবে।
ছেলেদের বিজয়ের ফ্যাশনে প্রতি বছরই থাকে বৈচিত্র্য। টিশার্ট বা ফতুয়ার ফ্যাশন সেকেলে হলেও ডিজাইন ও প্যাটার্নে থাকছে নতুনত্ব। যারা পাঞ্জাবি পছন্দ করেন তারা খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি বেছে নিতে পারেন। খাদির বাইরেও সিল্কের পাঞ্জাবি এবারের ফ্যাশনে এনেছে আধুনিকতা। শীত মওসুম বলে পাঞ্জাবির ফেব্রিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বেশি। নতুন ধারার ফ্যাশনে কোটও অনেকের পছন্দ। বিজয়ের ফ্যাশনে বেছে নিতে পারেন লাল-সবুজের ফ্লোরাল ডিজাইনের কটি। আর যারা লাল-সবুজের বাইরে নিজেকে সাজাতে চান তারা সাধারণ রঙের পোশাকে ব্যবহার করুন লাল-সবুজ শাল।
বিজয় দিবসের আয়োজন শুধু বড়দের জন্য নয়, ছোটদের জন্য ও ফ্যাশন হাউজগুলো তৈরি করেছে বিজয় উৎসবের পোশাক। লাল, সবুজ আর বিভিন্ন শেড রঙে তৈরি করা হয়েছে ছোট মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, টপস ও ফতুয়া। আর ছোট ছেলেদের পাঞ্জাবি, টিশার্টও সাজানো হয়েছে বিজয়ের রঙে। তবে শিশুদের পাঞ্জাবির কাটিংয়ে আনা হয়েছে বিভিন্ন পরিবর্তন। তাই তো পছন্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্যাশন হাউজগুলোও রুচিশীল ও উৎসবনির্ভর পোশাক তৈরি করেছে। ভিন্ন ফ্যাশনে সাজতে অনেকেই নিজের সৃজনশীলতায় তৈরি করে নিচ্ছেন একদম আলাদা একটি বিজয় দিবস স্টাইল।
মূলত সাদা, লাল ও সবুজে ফুটেছে বিজয়ের নকশা। সবুজ ও লালের নানা শেডও এ ক্ষেত্রে পরিপূরক হয়েছে। অনেকে আবার লাল-সবুজের পাশাপাশি সাদা, কালো, হলুদ, নীল, কমলা প্রভৃতি রঙের সংমিশ্রণেও পোশাকে নিয়ে আসছেন বিজয় উৎসবের আমেজ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.