শঙ্কিত জাতিসঙ্ঘ
শঙ্কিত জাতিসঙ্ঘ

শঙ্কিত জাতিসঙ্ঘ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার। এ ব্যাপারে দু'দেশের মধ্যে চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। তবে ফেরার পর রোহিঙ্গাদের পরিণতি ঠিক কী হবে, সে ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

জাতিসঙ্ঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার পর সেখানে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। জাতিসংঘের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। কারণ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।

জাতিংসঘের দাবি, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার অাগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সেখানে যাওয়ার পর রোহিঙ্গারা আবারও সহিংসতার শিকার হতে পারে।

জাতিসঙ্ঘকে ইসরাইলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেবে না ওয়াশিংটন

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে বিশ্ব সমাজের উদ্বেগ উপেক্ষা করে বলেন, ওয়াশিংটন জাতিসঙ্ঘকে ইসরাইলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকে হ্যালির বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন একমাত্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানোন। ইসরাইল ও জর্দান বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য না হলেও আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে তাদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণার পরপরই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি প্রকাশ করে ওই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।

বিশ্বের আরো বহু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে বায়তুল মোকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহর দখল করে নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক আকারে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা জাতিসঙ্ঘের

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। শুক্রবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দপ্তরে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় সবগুলো দেশ তার বিরোধিতা করে। নিরাপত্তা পরিষদের অর্ধেকের বেশি সদস্যদেশের আহ্বানে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আপোষ প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘের বিশেষ সমন্বয়কারী নিকোলাই ম্লাদেনোভ বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক আকারে সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে।

জেরুসালেম সমস্যা মোকাবেলায় জাতিসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার যে চেষ্টা চলছিল তা ভেস্তে গিয়ে আবার সংঘাত রূপ নিবে। সোমবার সিরিয়া, আংকারা ও কায়রোতে অবস্থিত রাশিয়ান সামরিক ঘাটি পরিদর্শন শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম কর্মীদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ ট্রাম্প কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা কখনই মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সমাধান করবে না বরং তার বিপরীত হবে। এরই মধ্যেই কিছু অঞ্চলে সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তি আলোচনা আর সম্ভব হবে না।’

জেরুসালেম সমস্যা মোকাবেলায় পুতিন জাতিসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন । এ বিষয়ে তিনি জানান, মস্কো বিশ্বাস করে একমাত্র জাতিসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ ছাড়া ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.