বিএনপির ৪ নেতা মাঠে সক্রিয়
বিএনপির ৪ নেতা মাঠে সক্রিয়
ঢাকা-১৬ আসন

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া কি প্রার্থী হবেন?

মঈন উদ্দিন খান

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসন। সংসদীয় তালিকায় এর অবস্থান ১৮৯ নম্বরে। উত্তর সিটি করপোরেশনে পল্লবীর ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং রূপনগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনটি। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর মিরপুর পল্লবীর সম্পূর্ণ এলাকাটি ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এক-এগারোর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে বৃহত্তর মিরপুর পল্লবী এলাকার এ আসনটি ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬-এ তিনটি আসনে ভাগ হয়।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি পুনরুদ্ধারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এখানে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার শোভা পাচ্ছে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবারো এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন। এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রীক তার তৎপরতাও লক্ষ করা গেছে। তবে তিনি কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তেমন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। প্রবীণ এ আইনজীবীর বিরুদ্ধে রয়েছে ৪২টি মামলা। তাই মামলাসহ অন্য কোনো কারণে তিনি এ আসনে নির্বাচন করতে না পারলে তার সহধর্মিণী অধ্যাপক সাহিদা রফিক এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন।

এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ও কৃষক দলের সহসভাপতি আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।

জানা গেছে, স্থানীয় হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন এলাকায় খুব পরিচিত। ১৯৯৩ সালে পল্লবীতে ৩ বিঘারও বেশি জমির ওপর শহীদ জিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও শহীদ জিয়া গার্লস ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ কয়েক মাস ধরে।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে পল্লবী থানা বিএনপির সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। দল আমাকে সুযোগ দিলে ধানের শীষের এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব। তিনি বলেন, পল্লবী, রূপনগর এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করে গণসংযোগ করে যাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে দল ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয়তা রয়েছে।

মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। মামলার কারণে এলাকায় গিয়ে সবসময় কর্মসূচি পালন করতে না পারলেও নেতাকর্মীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সাভারের মুশুরীখোলায় নিজ বাড়িতে ও রাজধানীর উত্তরা, বারিধারা, বসুন্ধরা এবং নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে সভা করে এলাকার সাথে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি এ আসনে নির্বাচন করতে চান। দলের নেতাকর্মীরাও তার সাথে রয়েছেন।

গ্রেফতার হওয়ার আগে দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক বলেন, আমার শৈশব-কৈশোর এমনকি যৌবন সবই কেটেছে পল্লবী এলাকায়। আমি এখান থেকে জাতীয় দলের ফুটবলার হয়েছি। তাই এ আসন নিয়ে আমার স্বপ্ন আছে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.