ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (ফািইল ফটো)
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (ফািইল ফটো)
বুদ্ধিজীবী দিবসে বিএনপির আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : ড. মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীনরা ২০১৪ সালে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বাক্সবন্দি করেছে। এবারো যদি সেই ধরনের নির্বাচনের চেষ্টা করা হয় তাহলে সে চেষ্টা হবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা, মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনাকে হত্যার চেষ্টা।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। শুধু তাই নয়, যে বা যারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কথা বলতে চায়, লিখতে চায় তাদেরকে গুম করে দেয়া হচ্ছে। তাই একটি কথা স্পষ্ট দেশে আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না এবং খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, ২০১৪ সালের মতো প্রহসনের নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা দুই বছর আন্দোলন করছি না। দেশেনত্রী খালেদা জিয়া সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে বার বার সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে। আগামী বিজয় দিবসের আগ পর্যন্ত আন্দোলনের পাশাপাশি ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আমরা জানি কোনো স্বৈরচারী সরকারের কাছ থেকে সমঝোতার মাধ্যমে কিছু আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, আজ দেশে আইনাঙ্গনে যে ঘটনা ঘটছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকার নিজের হাতে বিচার ব্যবস্থাকে খণ্ড বিখণ্ড করে দিয়েছে। ফলে এখন সরকার ইচ্ছে করলে যেকোনো বিচারককে অপমানিত করতে পারবে, অযুহাত দিয়ে বিদায় করতে পারবে।

সরকারের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনির্বাচিত সংসদ দ্বারা তৈরি সংবিধান দেশের মানুষ সমর্থন করে না। তাই সংবিধানের বুলি না তুলে কথা বলুন আলোচনা ও সংলাপ করুন। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ইসির পরিচালনায় নির্বাচন দিন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.