ঢাবিতে গণহত্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা

মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার সব তথ্য এখনো উদঘাটন হয়নি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

একাত্তরে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে পরিমাণ গণহত্যা হয়েছে তার সব তথ্য এখনো উদঘাটন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেটে ভবনে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।

‘জেনোসাইড অ্যান্ড মাস ভায়োল্যান্স’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে যে পরিমাণ গণহত্যা হয়েছে তার সব তথ্য এখনো উদঘাটন হয়নি। এজন্য গণহত্যা নিয়ে আরো বেশি গবেষণা করতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের জন্য বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের প্রাক্তন অধ্যাপক আশিস নন্দী। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাবির সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

দেশের অগ্রগতির স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বার জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশ গড়তে হবে। সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনসহ সব গণহত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। এজন্য তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেককে জাগ্রত হতে হবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে গবেষকদের সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।

‘জেনোসাইড : বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এ অধিবেশনে তিনি বলেন, একাত্তরের গণহত্যার সব তথ্য উদঘাটন করতে হলে আরো বেশি গবেষণা করতে হবে। বুদ্ধিজীবীদের রক্তের ওপর দিয়েই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এজন্য গণহত্যা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।

উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীগণ অংশগ্রহণ করছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.