দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জাপার দখলে মাঠ
দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জাপার দখলে মাঠ
ঠাকুরগাঁও-৩ আসন

দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জাপার দখলে মাঠ

আনোয়ার হোসেন জীবন রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-৩ তথা পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (জাপা) সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সব দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠ চাঙ্গা করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৎপর রয়েছেন।

বিএনপি, জাপার একক প্রার্থী থাকায় নিজের মতো করে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জোট সমর্থিত হাতুড়ি মার্কার প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলীয় কোন্দল চরমে। পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং রানীশংকৈল উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ এর নির্বাচনী আসন। বর্তমানে আসনটি ১৪ দলের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির দখলে থাকলেও আগামীতে আওয়ামী লীগের ঘরে ফিরিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা: সেলিনা জাহান লিটা, শরিক দলের হাতুড়ি মার্কা প্রতীকের ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি অধ্যাপক মো: ইয়াসিন আলী।

অন্য দিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদও একাদশ নির্বাচনে জয়লাভের আশায় দিনভর নির্বাচনী মাঠে যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন রেখেছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদও আগের মতো করে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনতে কিছু দিন থেকেই মাঠে নেমেছেন তিনি।

আসন্ন একাদশ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের কে হবেন সংসদ সদস্য? তা নিয়ে পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল উপজেলার মানুষের মধ্যে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের বিচার বিশ্লেষণ।
এ আসনটি দলীয় কোন্দলের কারণে ইমদাদুল হককে পরাজিত করে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের দখলে চলে যায় ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে। ফলে আসনটি নৌকা প্রতীকের হাত ছাড়া হয়ে যায়।

পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি ইমদাদুল হক অনেক যতœ করে দলকে আগলে রেখেছেন। ২০০১ সালের পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক এমপি ইমদাদুল হক, জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ আর ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক এমপি শহিদুল্লাহ শহিদ। কিন্তু মহাজোট হওয়ায় সে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমদাদুল হককে। তবে হাতুড়ি মার্কা নিয়ে মাঠে থেকে যান শহিদুল্লাহ শহিদ। সে নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে হাফিজ উদ্দিনকে নির্বাচিত করা হয়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ইমদাদুল হক, জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। এবারো কেন্দ্রীয় নির্দেশে ইমদাদুল হককে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সরে যেতে হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় মহাজোটের প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের প্রতিপক্ষ হয়ে যান ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক মো: ইয়াসিন আলী। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে হাফিজ উদ্দিনের বনিবনা না হওয়ায় সমর্থন চলে যায় ইয়াসিন আলীর দিকে।

অধ্যাপক ইয়াসিন আলী ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। পরাজিত হন মহাজোট প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট পাল্টাতে থাকে।

এই নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী রাজনীতিতে আরেক মাত্রা যোগ করেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১ এর এমপি সেলিনা জাহান লিটা। তিনি মরহুম সংসদ সদস্য আলী আকবরের মেয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রানীশংকৈল উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। সাবেক এমপি ইমদাদুল হক আসনটি নিজ দখলে নেয়ার চেষ্টা করে এলেও লিটা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনিও নিজ দখলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন দু’জনই। বন্যার্তদের মাঝে শুধু ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নয়, তিনি মেডিক্যাল টিম নিয়ে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে শতভাগ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।

মেডিক্যাল টিমের সাথে নিজে সময় দেন সারাক্ষণ। অসুস্থদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করেন। উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে নারীদের সংগঠিত করছেন। এ ছাড়াও সামাজিক উন্নয়ন, মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে রেখেছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মসূচির ফলে অনেকাংশই তা দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। তা ছাড়া খেলাধুলার ব্যাপারে নিজস্ব ক্রীড়া অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করে ফুটবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার মানসম্মত খেলোয়াড় গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ক্রীড়ার ক্ষেত্রে বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। আর রাজনীতিতে বাবার আদর্শকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।

এমপি লিটা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজের ধারাকে অব্যাহত রেখে তার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নমূলক কাজের বার্তা সব মানুষের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমার যাত্রা অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে যাতে বাস্তবে রূপ দিতে পারি। নৌকা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

ঠাকুরগাঁও-৩-এর এমপি অধ্যাপক মো: ইয়াসিন আলী বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যদি আমি মনোনয়ন পাই তবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশা রাখছি।

এ দিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমি বিগত দিনে মানুষের পাশে থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। বর্তমানে এসব কর্মকাণ্ড থেমে গেছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হলে উন্নয়নমূলক কাজ চালু করতে চাই।

বিএনপির পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: জাহিদুর রহমান বলেন, আমি দিন-রাত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়েই আমি নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবো।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.