ফোর্বসের সমীক্ষায় ২০১৭ : শীর্ষ ১০ ক্ষমতাবান নারী কারা?
ফোর্বসের সমীক্ষায় ২০১৭ : শীর্ষ ১০ ক্ষমতাবান নারী কারা?

ফোর্বসের সমীক্ষায় ২০১৭ : শীর্ষ ১০ ক্ষমতাবান নারী কারা?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আমেরিকার ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রতি বছরই ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করে থাকে, যারা তাদের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর। বরাবরের মতো এ বছরও তারা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালে ফোর্বসের সমীক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ১০ নারীর প্রথম সারিতে রয়েছে জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কেল, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র নাম।

অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকে বলা হয় মুক্ত বিশ্বের চ্যান্সেলর। গত এক যুগ ধরে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিউন ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধান। দৃঢ় নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সাম্প্রতিক অভিবাসী সমস্যা সমাধানে তার ভূমিকার জন্য তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিফ্যাক্টো লিডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বস্তুগত রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী প্রাক্তন এই গবেষক-বিজ্ঞানী রাজনীতিতে যোগ দেন ১৯৮৯ সালে। ১৯৯১ সালে তিনি মহিলা ও যুবকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ১৯৯৪ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০০ সালে তিনি তার দল সিডিইউয়ের প্রধানের পদ লাভ করেন। ২০০৫ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে সরকার গঠন করেন। এরপর ২০০৯ এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনেও তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। অ্যাঞ্জেলা মার্কেল শুধু এবার নয়, এখন পর্যন্ত মোট রেকর্ড সংখ্যক দশ বার ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মহিলার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন। এছাড়াও তিনি ফোর্বসের বিবেচনায় দু’বার বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে তিনি টাইম ম্যাগাজিনে ‘পার্সন অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হন। টাইস ম্যাগাজিন তাকে ‘চ্যান্সেলর অফ দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ উপাধিতে ভূষিত করে।

গত বছর বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। সবাই একপ্রকার ধরেই নিয়েছিল, তিনিই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর হিলারি ক্লিন্টন দ্বিতীয় স্থান থেকে ছিটকে চলে গেছেন ৬৫ তম স্থানে। আর তার পরিবর্তে দ্বিতীয় স্থানটি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ব্রেক্সিট বিতর্কে অত্যন্ত কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং আগাম নির্বাচনের আয়োজন করে তিনি বারবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। কিন্তু সব চ্যালেঞ্জকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করে এখনো বহাল তবিয়তে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

মেলিন্ডা গেটসের পরিচয় তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটসের স্ত্রী এবং তার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সর্বময় কর্তা। তবে বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সহ-সভাপতি। বিশ্বব্যাপী তার জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এর আগেও একাধিকবার ফোর্বসের প্রভাবশালী মহিলার তালিকায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি এই তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি এবং বিল ক্লিনটন টাইমম্যাগাজিনর ‘পার্সনস অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ বছর ফ্রান্সের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দে তাকে এবং বিল ক্লিনটনকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘লেজিয়ন অব অনার’-এ ভূষিত করেছিলেন।

শেরিল স্যান্ডবার্গ বর্তমান বিশ্বের ব্যবসায়িক জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। পূর্বে তিনি গুগলের ‘অনলাইন সেলস অ্যান্ড অপারেশন্স’ বিভাগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি এই পদে কর্মরত আছেন। সফলভাবে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফেসবুককে একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ব্যাপারে তার বিশাল অবদান আছে। ২০১২ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে ফেসবুকের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একইসঙ্গে একজন নারী অধিকার কর্মীও।

ম্যারি বারা মার্কিন আমেরিকার জেনারেল মোটরস কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং প্রধান সিইও। ২০১৪ সালে কোম্পানিটির সিইওর দায়িত্ব পাওয়া ম্যারি বারা ছিলেন মোটরগাড়ি শিল্পের প্রধান কোম্পানিগুলির মধ্যে প্রথম মহিলা সিইও। সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে তিনি কোম্পানিটির ক্রয় এবং সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি এখনও পর্যন্ত মোট ছ’বার ফোর্বসের ক্ষমতাশালী মহিলার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ফরচুন ম্যাগাজিনের বিশ্বের ক্ষমতাধর মহিলার তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

ক্রিস্টিন লাগার্দ বর্তমানে আইএমএফের শীর্ষকর্তা। ২০১১ সালে তার পূর্বসূরী ডোমিনিক স্ট্রস কান যৌন কেলেঙ্কারির দায়ে পদত্যাগ করলে তিনি প্রথম নারী হিসেবে এই পদে নিযুক্ত হন। এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১১ সালে প্রথমে ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত হলেও পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তাকে আরও ৫ বছরের জন্য আইএমএফের এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ২০০৯ সালে তাকে ইউরো জোনের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাদের তালিকায় স্থান দিয়েছিল। ২০১৪ সালে তিনি ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারী তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলেন।

এছাড়া ফোর্বসের এ বছর ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় প্রথম দশজনের মধ্যে রয়েছেন ভার্জিনিয়া ম্যারি রমেটি বা জিনি রমেটি। বিখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইবিএমের সভাপতি এবং প্রধান কর্তা। রয়েছেন অ্যানা প্যাট্রিশিয়া বটিন। একজন স্প্যানিশ ব্যাঙ্কার। ২০১৪ সাল থেকে তিনি স্যানট্যান্ডার গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মার্কিন বিনিয়োগকারী সংস্থা ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের সভাপতি অ্যাবিগেইল জনসন ও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবের প্রধান কর্তা সুজান ওইচিজকি ওই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.