বহুগামিতার পরিণতি
বহুগামিতার পরিণতি

বহুগামিতার পরিণতি

মুহাম্মদ শরীফ

বাংলাদেশের তারকা জগতে দেখা যাচ্ছে বিয়ে বিচ্ছেদের অধিক প্রবণতা। সর্বশেষ এই কাতারে যুক্ত হয়েছে সাকিব-অপু জুটির বিচ্ছেদ। অপু-সাকিবের সম্পর্কের শুরু ‘কোটি টাকার কাবিন’ নামক সিনেমা দিয়ে। সিনেমায় তাদের মিলন হলেও, বাস্তবে তাদের সরে যেতে হচ্ছে দূরে। এ ছাড়া তাদের আছে একটি পুত্রসন্তান। কিন্তু এই জুটি চাচ্ছেন না আর এক সাথে থাকতে, যা সিনেমার চেয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষাদের। এটাই বাস্তব বুঝি!

বেশ কিছু দিন আগে ভেঙে গিয়েছিল জনপ্রিয় তাহসান-মিথিলার সংসার। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের অনেকেই এই জুটিকে আইডল হিসেবে মানতেন। স্বপ্ন দেখতেন, তাদের মতো জুটি বাঁধতে। তাদের বিচ্ছেদে অনেক তরুণই পেয়েছেন আঘাত। বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে চলে না বাইরের কারো কথা। নিলয়-শখ, হাবিব, আরেফিন রুমি, ন্যান্সির মতো দেশের বিখ্যাত তারকারাও বেছে নিয়েছেন এই পথ। বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিক সম্পর্কপ্রিয়তা। ছেলে এবং মেয়ে, উভয়ের ক্ষেত্রেই।

বিচ্ছেদ যে কেবল তারকাদের মধ্যে হচ্ছে তা নয়, তরুণদের মধ্যেও একিই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নারীরা আছে এগিয়ে। এমনকি এর জন্য হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। এই আত্মঘাতী পথটা বেছে নিচ্ছে বিশেষ করে মেয়েরা। তবে এর জন্য যে কেবল মেয়েরা দায়ী, তা নয়। এর পেছনে রয়েছে ছেলেদের অনীহা ও বিচ্ছেদের প্রতি প্রচারণা।

অধুনা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে বিচ্ছেদের প্রবণতা। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের সমাজে এক নতুন সংস্কৃতির অধিক উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এমন নয় যে, বিচ্ছেদ আমাদের সমাজে ছিল না। ছিল। তবে এটি ছিল খুবই স্পর্শকাতর ব্যাপার। সামান্য কারণেই বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটত না, এখন যেমন ঘটতে পারছে। বিশ্বায়নের ফলে বৈশ্বিক রাষ্ট্রগুলো আরো কাছে চলে আসে। আর তথ্য প্রযুক্তির অবাধ বিকাশে বহিরাষ্ট্রের সাংস্কৃতির আক্রমণের শিকার হয় তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো।

প্রথমেই বলেছি, একটি দেশের সাংস্কৃতিক অন্য দেশের জন্য হয়ে উঠে অপসংস্কৃতি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শৈশব সে দেশের জন্য ব্যতিক্রমী কোনো উদাহরণ নয়। সেখানকার পারিবারিক ব্যবস্থাটা এরকমই। কিন্তু বারাক ওবামার শৈশব আমাদের কাছে ব্যতিক্রম। কেননা, এ ধরনের সমাজব্যবস্থায় আমরা অভ্যস্ত নই, আর এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করে থাকি না। তার অন্যতম কারণ আমাদের পারিবারিক ব্যবস্থার প্রাধান্যতা।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন পশ্চিমাদের কাছে রাষ্ট্র প্রধান, আমাদের কাছে সমাজ প্রধান। ঠিক এই কারণে হয়তো রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রের চেয়ে সমাজকেই গুরুত্ব দিতেন বেশি। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা সমাজ-সংস্কৃতির প্রভাব পড়তে। তরুণের অধিক সম্পর্কপ্রিয়তা আর তুচ্ছ কারণে বিচ্ছেদ, এর একটি চিহ্ন। অধিক সম্পর্কপ্রিয়তার কারণে দ্রুতই ভেঙে যাচ্ছে পরিবারগুলো। বেড়ে যাচ্ছে পরকীয়ার মতো অসামাজিক ব্যাপারগুলো। ‘কমিউনিকেশন’ আধুনিককালে একটি দক্ষতা হিসেবে খ্যাত। কিন্তু আমাদের দেশের তরুণরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। নতুন এই সামাজিক পরিস্থিতিতে তরুণরা পারছে না সঠিক পথে মিশতে। যার ফলে তরুণদের হতাশায় কাটাতে হচ্ছে সময়। আর তারা জানে না কিভাবে বেরিয়ে আসতে হবে এ হতাশা থেকে। তরুণদের এই হতাশা থেকে ফেরাতে এগিয়ে আসতে হবে সমাজবিজ্ঞানীদের। সাংস্কৃতিক এই আগ্রাসনের কালে, তরুণদের দেখাতে হবে সঠিক পথ। পশ্চিমা এই অতি বিচ্ছেদ সংস্কৃতি আমাদের জন্য অপসংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপসংস্কৃতি থেকে তরুণরা মুক্তি চায়। চায় দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ।

শিক্ষার্থী
তৃতীয় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.