ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

তুরস্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নীরবতা পালন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে তুরস্ক রোববার নববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছে। খবর এএফপি’র।

এক বছর আগে ইস্তাম্বুলের একটি অভিজাত নাইটক্লাবে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৩৯ জন নিহত হওয়ায় এ বছর এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে এক উজবেক বন্দুকধারী বোস্ফোরাসের রেইনা নাইটক্লাবে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

খবরে বলা হয়, রেইনা হত্যাযজ্ঞের পর থেকে তুরস্কে আর কোন বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলেই এমনটা হয়েছে।

এদিকে কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই এ বছরের নববর্ষ পালন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ব সতর্কতামূলক সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ইস্তাম্বুলের গভর্নর ভাসিপ সাহিন জানান, এ লক্ষ্যে নতুন বছরের রাতে ইস্তাম্বুলে ৩৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এ সংখ্যা গত বছরের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।

এছাড়া রক্ষী ও কোস্টগার্ড বাহিনীর চার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ দেশটির অধিকাংশ জনপ্রিয় এলাকায় নতুন বছরের সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ বা বাতিল করেছে।

অভ্যুত্থান চেষ্টা
২০১৬ সালের ১৫-১৬ই জুলাই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৯০ জন নিহত এবং ১,৪৪০ জনের বেশি আহত হয়। আঙ্কারায়, তুরস্কের পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। গুলির শব্দ আংকারা এবং ইস্তানবুলের প্রধান বিমানবন্দর থেকেও কাছাকাছি শোনা যায়।

ঘটনার প্রতিক্রিয়া জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে উভয়ই মূলত অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ছিল। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নিন্দা করেছে।

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দ্রুত একে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ঘোষণা করে এবং জড়িতদের বিচার শুরু করে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছেন। একদিন পরে তিনি গণমাধ্যমের উদ্দেশে ভাষণে বলেন, অবস্থা ‘সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও বিচারসহ প্রায় ছয় হাজার জনকে আটক করা হয়।

রাষ্ট্রপতি এরদোগান সৈন্যদের সাথে গুলেন আন্দোলনের সম্পর্ক আছে বলে দায়ী করেছেন। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা পরিকল্পনার জন্য এফইটিও নামে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন যুক্ত বলে মন্তব্য করে সরকার। তবে আন্দোলনের আধ্যাত্মিক নেতা এবং নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতহুল্লাহ গুলেন অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে এবং অভ্যুত্থানের সাথে নিজের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.