চকলেট, ঘড়ি ও ব্যাংকখ্যাত সুইজারল্যান্ড

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

সুইজারল্যান্ডের ছোট একটি শহর জেনেভা। ছোট হলেও এ শহরটি গুরুত্বের দিক থেকে বিশ্বে সুপরিচিত। জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বের কয়েকটি সংস্থার অফিস ও সদর দফতর জেনেভায় অবস্থিত। যেমন- ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশনের সদর দফতর, বিশ্বের বিজ্ঞানীদের রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব আবহাওয়া দফতর, রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্টের সদর দফতর, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা এবং জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সদর দফতর ইত্যাদি। 

সম্প্রতি প্যারিস থেকে ফ্রান্সের দ্রুততম ট্রেন টিজিভি ডুপ্লেক্সে (ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩১৯ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলে) করে অত্যন্ত সুন্দর ও ছবির মতো চমৎকার শহর জেনেভায় মাত্র তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যাই। টুরিস্ট বাসে জেনেভা শহর ঘুরতে লাগে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পর সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। টিজিভি ট্রেনে আমার এটাই প্রথমবারের মতো সফর। দ্রুতগামী এ ট্রেন সংযুক্ত করেছে ফ্রান্সের প্রধান শহরগুলো ছাড়াও ইউরোপের অনেক দেশের রাজধানীকে। এ ট্রেন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চমানের অ্যালুমিনিয়াম। ফলে ওজন হয়েছে কম। প্রতিটি বগি এতটাই সহনশীল, সর্বোচ্চ গতিতে চলাচলের সময় একটি টিজিভি ট্রেন যদি দুর্ঘটনাকবলিত হয়- তা হলে এর বগিগুলো একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যাবে না। ফ্রান্সের এসএনসিএফ কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এ ট্রেন ২০১১ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।

বর্তমানে খুবই ঠাণ্ডা জেনেভায়। পরিচ্ছন্ন এবং জাঁকজমকপূর্ণ শহরটিতে মানুষের আতিথেয়তা সবাইকে মুগ্ধ করে। সুইস চকলেট, সুইস ঘড়ি ও সুইস ব্যাংকখ্যাত সুইজারল্যান্ড সত্যিই অভূতপূর্ব। জেনেভা শহরে কেবল দুই থেকে আড়াই লাখ লোকের বসবাস। মাত্র তিন থেকে চার শ’ বাংলাদেশীর অবস্থান সেখানে। এদের প্রায় সবাই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ও শপিংমলে কর্মরত এবং অনেক বাংলাদেশী ভালো চাকরি খুঁঁজে বেড়াচ্ছেন। আমজাদ চৌধুরী নামে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের অধিবাসী জেনেভা শহরে বোম্বে রেস্টুরেন্ট, বোম্বেজি প্লাস ও কারি হাউজ নামে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রধান হিসেবে দেশী মানুষের কল্যাণে বেশ সহযোগিতা করে থাকেন।

লেক লেমন জেনেভা শহরের পর্যটন প্রসিদ্ধ এলাকা। দেখেছি জেনেভাতে প্রচণ্ড শীত এবং স্নো পড়ছে। দেখে এসেছি- গুঁড়ি গুঁড়ি বরফের বৃষ্টি পড়ছে, আবার নিমিষেই শেষ। এ সময় রৌদ্র বেশ উপভোগ্য। দেশটিতে কোনো ক্রাইম আছে বলে মনে হয়না। তবে অবৈধ বিদেশীদর থাকার তেমন কোনো সুযোগ নেই। সুইজারল্যান্ডে মোট পাঁচ-ছয় হাজার বাংলাদেশী রয়েছেন। আশার কথা, জেনেভা শহরে বাংলাদেশী কমিউনিটি স্থাপিত ‘বাংলা পাঠশালা’ নামে সোনামণিদের একটি স্কুল রয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে প্রবাসী মাহবুবুর রহমান, শাহাদাত, রিয়াজুল হক ফরহাদ, হোসেইন প্রমুখ রয়েছেন। বাংলায় লেখাপড়া ছাড়াও বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি এ স্কুলে তুলে ধরা হয়ে থাকে।
সুইজারল্যান্ডে দুর্ঘটনা সাধারণত ঘটে না। ফ্রান্সের আলমাস জেনেভার নিকটতম সীমান্তশহর।

গ্রীষ্মকাল সুইজারল্যান্ড ভ্রমনের চমৎকার সময়। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ড সবচেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ। এর প্রাকৃতিক দৃশ্য ইউরোপের সব দেশকে হার মানায়। পাহাড়, পর্বত, লেক, ভ্যালি ও আলপাইন বনাঞ্চল ঘেরা এই দেশটিকে আল্লাহতায়ালা যেন সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন। জেনেভা শহর থেকে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে জুরিখ, বার্ন, ব্রাসেলস, লজান শহর থেকে ফ্রান্স, জার্মান, ইতালি, অস্ট্রিয়ার যেকোনো শহরে বাস-ট্রেনে যাতায়াত করা সহজ।

জেনেভা শহরের চতুর্দিক মনোরম। প্রতিটি প্রান্ত চোখজুড়ানো। জেনেভার লেক চমৎকার ও বিশাল। মনোরম দৃশ্যে ভরপুর জেনেভা শহর। ভ্রমণ যেন শেষ হতেই চায় না। সুযোগ ও সময় করে দেখে আসুন না জেনেভা শহর বা গোটা সুইজারল্যান্ড। দেশটি কোনোভাবেই ভুলে থাকার নয়।

লেখক : মহাসচিব, ইউনেস্কো ক্লাব, ঢাকা

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.