বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচজন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন।
বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচজন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন ৩ নতুন মুখ, মঙ্গলবার শপথ

জাকির হোসেন লিটন

সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি একেএম শাহজাহান কামাল ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন প্রখ্যাত আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার। অন্যদিকে বর্তমান মৎস্য ও প্রাণিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারা বঙ্গভবনে শপথ নিবেন। ইতোমধ্যেই তাদেরকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শপথের জন্য ফোন করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে কাকে কোন মন্ত্রণালয় দেয়া হবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

আওয়ামী লীগ ও সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচনের খুব একটা বেশি দেরি নেই। সেজন্য সরকারের শেষ সময়ে এসে কাজে গতিশীলতা ও প্রশাসনিক কর্ম-তৎপরতা বাড়াতেই এ বছর মন্ত্রিসভা রদবদলের দিকে ঝুঁকেছে সরকার।

বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী। এ ছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচজন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী পদটি শূন্য রয়েছে।

মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য ডাক পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস-বেসিসের সভাপতি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি তিনি। তাকে কম্পিউটারে বাংলা ভাষা যুক্ত করার পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিজয় বাংলা কিবোর্ড ১৯৮৮ সালে প্রকশিত হয়, যা প্রথম বাংলা কিবোর্ড এবং ইউনিকোড আসার পূর্বপর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।

তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে সরকারের নানা প্রকল্পের সাথে সরাসরি জড়িত। ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সদস্য তিনি। নানা সময় তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোস্তফা জব্বার। পাশাপাশি এই খাতে আর কী কী করা যায় সে বিষয়েও নানা সময় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গত ৬ ডিসেম্বর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মেলা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অন্যতম বক্তা ছিলেন মোস্তফা জব্বার। এই বক্তব্যে তিনি তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে সরকারের চিন্তার সাথে একমত পোষণ করে নানা দাবি তুলে ধরেন। আর ওই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে আরো বড় কোনো দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে তিনি মন্ত্রিসভায় শপথের ডাক পেলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আপনাকে ফোন করা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না, আমার মুখ বন্ধ, আপনারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেনে নিন।’

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হক গত ১৬ ডিসেম্বর মারা গেছেন। ফলে তার পদোন্নতি হচ্ছে।

ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব আজ দুপুরে আমাকে ফোন করেছিলেন। আগামীকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

রাজবাড়ী-১ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। সোমবার ফোন পেয়ে তিনি ঢাকার পথে রওয়ানা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে টানা দুইবার ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের কোনো সংসদ সদস্য। লক্ষ্মীপুর সদর-৩ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য শাহজাহান কামালকে শপথ নিতে বঙ্গভবনে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বেয়াই তিনি।

জানতে চাইলে শাহাজাহান কামাল বলেন, ‘আমাকে ডাকা হয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবভনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।’

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা। ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন একজন। সেদিন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি তার আগের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালন করেন। একই দিন মন্ত্রী হিসেবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এস.সি, এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তারানা হালিম এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নুরুজ্জামান আহমেদ শপথ নেন।

এরপর মন্ত্রিসভায় আরো একটি রদবদল হয়, যা দেশজুড়ে চমক তৈরি করে। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। তবে এর এক সপ্তাহ পরই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.