মিশার নতুন মিশন

আলমগীর কবির

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেতা মিশা সওদাগর এখন পর্যন্ত দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে এই স্বীকৃতির চেয়ে দর্শকের ভালোবাসাকেই তিনি সবসময়ই বড় অর্জন হিসেবে দেখেন।

বাংলাদেশে এই সময়ের খলঅভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন মিশা সওদাগর। বিগত বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তার এই অবস্থান চরিত্রানুুযায়ী বেশ দৃঢ় হয়ে আছে। নিজের অবস্থান নিয়ে মিশা সওদাগর কখনোই দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন না। একের পর একে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে গেছেন তিনি। আর এভাবে দীর্ঘদিনের পথচলায় কখন যে আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা তার হয়ে গেছে তা টেরই পাননি তিনি। জাত অভিনেতারা বুঝি এমনই হন, হিসাব কষার সময় হয় না তাদের। তাই নিজের হাতে এই মুহূর্তে যে ১৭টি চলচ্চিত্র আছে তারও হিসেবে রাখেননি তিনি।

মিশার হাতে এই মুহূর্তে যে চলচ্চিত্রগুলো আছে সেগুলো হচ্ছে সোহানুর রহমান সোহানের ‘রাগী’,‘অবলা নারী’, বদিউল আলম খোকনের ‘আমার মা আমার বেহেস্ত’,‘হারজিৎ’, শাহীন সুমনের ‘মাতাল’, ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘মনে রেখো’,শফিক হাসানের ‘বাহাদুরী’. শাহনেওয়াজ শানুর ‘হিরোগিরি’, হাসান শিকদারের ‘অবতার’, রবিন খানের ‘কানাগলি’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘জান্নাত’,‘এমনওতো প্রেম হয়’, আশিকুর রহমানের ‘মিশন অগ্নিপথ’, মান্নান গাজীপুরীর ‘পাঙ্কু জামাই’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’, সৈকত নাসিরের ‘পাষাণ’, ইফতেখার চৌধুরীর ‘বিজলী’।

এরমধ্যে কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ, কয়েকটি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায় আর কয়েকটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলছে। প্রতিটি চলচ্চিত্রেই মিশা সওদাগর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ দিকে বৃহস্পতিবার মিশা সওদাগরের জন্মদিন। জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই তার। তবে স্ত্রী মিতু এবং ছোট ছেলে ওয়াইজ কুরুনীকে সঙ্গে নিয়েই জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করবেন তিনি। কারণ বড় ছেলে ওয়ালিদ হাসান দেশের বাইরে আছেন উচ্চশিক্ষায় নিজেকে গড়ে তুলতে।

মিশা সওদাগর বলেন,‘যে ১৭টি চলচ্চিত্র আমার হাতে আছে, নতুন করে নিজেকে উপস্থাপনের নতুন মিশনই হচ্ছে এই চলচ্চিত্রগুলো। প্রতিটি চলচ্চিত্রে নিজেকে উজার করে অভিনয় করেছি। প্রত্যেক পরিচালক আমাকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। আমি সারা জীবন অভিনয়কেই ভালোবেসে কাজ করেগেছি। দেশ দিয়েছে জাতীয় স্বীকৃতি, দর্শক দিয়েছে অসীম ভালোবাসা। এই স্বীকৃতি আর ভালোবাসা নিয়েই আমি বেঁচে থাকতে চাই সবার মাঝে। আর জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চাই যেন পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভালো থাকতে পারি, সুস্থ থাকতে পারি।’

মিশা সওদাগরের দাদার নাম জুম্মন সওদাগর। মিতার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করে তিনি বিয়ে করেছেন। মিশার পুরো নাম শাহিদ হাসান। ভালোবাসার মানুষ মিতার নামের মি এবং নিজের নামের শা একসঙ্গে করে নিজের নাম রাখেন মিশা। দাদার নামের থেকে সওদাগর টাইটেল নিয়ে নিজের পুরো নামকরণ করেন মিশা সওদাগর। মিশা সওদাগর বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি। 

ছবি : শাহাদাত হোসেন সবুজ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.