বেবি নিউ ইয়ার

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

আক্কাছ ভাইয়ের অভিযোগ, গোল্লাছুট খেলার সময় উত্তরপাড়ার হ্যাপি তাকে ছোঁয়ার পরিবর্তে পিঠে রামচড় মারে, যাতে সে দড়াম করে উল্টে যাওয়ার ফলে তার সামনের একটি দাঁত সম্পূর্ণ উপড়ে পড়ে। ঘটনাটা ছোটবেলায় হলেও তার ফল এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আক্কাছ ভাই। কথা বলতে গেলে অর্ধেক কথা ফোঁস করে ফাঁকা স্থান দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে ‘প’-এর উচ্চারণ ‘হ’-এর মতো শোনায়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তিনি এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করে ফেললেন। যে করেই হোক হ্যাপিকে তিনি ঘরের বউ করে আনবেন।
বিয়ের কথা সরাসরি বললে হ্যাপি রাজি নাও হতে পারেন, তাই প্রথমে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে হবে। সুযোগ বুঝে তিনি এক দিন তার মনের কথাটি হ্যাপিকে বলে ফেললেন। হ্যাপি কিছুটা আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করল, তুমি আমাকে ভালোবাসো কেন?
আক্কাছ ভাই ফিসফিস করে বললেন, তুমি জানো কি না জানি না, যেখানে কিছু হারিয়ে যায়, সেখানেই তা খুঁজতে হয়। আমি তোমার কারণে আমার দাঁত হারিয়েছি, তাই তোমাকে ভালোবেসে আমি হ্যাপি হতে চাই।
হ্যাপি মুচকি হাসি উপহার দিয়ে বলল, আমি রাজি।
হ্যাপি এত সহজে রাজি হয়ে যাবে এ কথা আক্কাছ ভাই ভাবতেও পারেননি। তিনি এই খুশিতে টাসকি খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। এপাশ-ওপাশ করে নির্ঘুম রাত কাটালেন। এরপর তিনি হ্যাপির সাথে কতবার পার্কের ঘাস মাড়িয়েছেন, সিনেমা হলের সিট গরম করেছেন, তার কোনো শেষ নেই। পরম আদরে হ্যাপির মোবাইল ফোনে দৈনিক পঞ্চাশ টাকা পাঠিয়েছেন। মহা সুখে দিন-রাত কাটাচ্ছিলেন তিনি। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ করেই তিনি এক দিন শুনলেন, হ্যাপির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে! তিনি মনে মনে বললেন, হ্যাপি আমাকে অনেকবার বলেছে, সে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। হ্যাপির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে মানে আমি বর হতে চলেছি। তিনি চোখ বড় বড় করলেন। বললেন, তাহলে হ্যাপি আমাকে জানাল না কেন? তাহলে কি অন্য কারো সাথে...
তিনি হ্যাপিকে ফোন দিলেন। বললেন, হ্যাপি সোনা, কথাটা সত্যি?
ওপাশ থেকে উত্তর এল, জি তামা! হবু স্বামীর দেয়া আংটি পরে আমি এখন বসে আছি। তুমি দেখতে আসবে?
তিনি প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমার সাথে প্রেম করলে যে?
ওপাশ থেকে ভেসে এলো, সোনার সাথে তামার যেমন তুলনা হয় না। তেমনি তোমার মতো আক্কাছদের সাথে শুধু প্রেমই করা যায়। বিয়ে নয়।
কথাটা শুনে আক্কাছ ভাইয়ের কলিজা, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড সব জমে এক টুকরো বরফখণ্ডে পরিণত হলো। ওই ঘটনার পর তিন দিন তিনরাত তার জবান বন্ধ ছিল। কালক্রমে তার জবান খুললেও ‘হ্যাপি’ নামটি শুনলেই তিনি পাগলা ষাঁড়ের মতো তেড়ে আসেন। প্রতি বছর নববর্ষের সময় তার এলার্জি বেড়ে যায়। কারণ নিউ ইয়ারের আগে সকলে ওই ‘হ্যাপি’ নামটি জুড়ে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি নতুন বছর এলেই এক মাসের শীতনিদ্রায় চলে যান। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে তিনি যুবসমাজের এক বিরাট সভা আহ্বান করলেন। বললেন, যুগের সাথে যেহেতু সব পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর পরিবর্তে নতুন বছরে ‘বেবি নিউ ইয়ার’ বলা উচিত। তিনি ঘোষণা দিলেন, কেউ ‘বেবি নিউ ইয়ার’ বললে উপহার হিসেবে তাকে বাতাসা খাওয়ানো হবে।
পুনশ্চ: হ্যাপি তার সাথে প্রতারণা করলেও বেবি তার সাথে কোনো প্রতারণা করেনি। তিনি ইতোমধ্যে ব্যাচেলর জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বিবাহিত সঙ্ঘের সদস্য পদে যোগদান করেছন, যাকে বিয়ে করেছেন তার নাম বেবি। হ্যাপিকে তিনি ঘৃণা করলেও বেবিকে দারুণ পছন্দ আক্কাছ ভাইয়ের।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.