ঐশ্বরিয়া সন্তান দাবি করে বিপাকে যুবক
ঐশ্বরিয়া সন্তান দাবি করে বিপাকে যুবক

ঐশ্বরিয়া সন্তান দাবি করে বিপাকে যুবক

নয়া দিগন্ত অনলাইন

গোটা বলিউডে শোরগোল ফেলেছিল অন্ধ্রের এক যুবকের দাবি। আর কারো নয়, খোদ বচ্চনবাড়ির বউকেই মা বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তার কথামতো বিয়ের বহু আগেই সন্তানের মা হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এহেন দাবির কারণেই এবার পুলিশি ব্যবস্থার মুখে পড়তে চলেছেন ওই যুবক।

সূত্রের খবর, অন্ধ্রের যুবক সংগীত কুমারের দাবির পরই পুলিশের দ্বারস্থ হন ঐশ্বরিয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে নায়িকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে চলেছে ভাইজ্যাগ পুলিশ। বর্তমানে ওই যুবক ভাইজ্যাগেই আছেন।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগ না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু করার ছিল না। কিন্তু যেহেতু ঐশ্বরিয়া নিজে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে এগিয়ে এসেছেন, ফলত এখন পুলিশ তার নিজস্ব কাজ করবে। তবে ওই যুবক যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয় বা কোনো বিশেষ ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হবে।

জানা যাচ্ছে, যুবকটি অন্ধ্রের এক বাস কন্ডাক্টরের ছেলে। সে রাজ্যের স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনেই চাকরি করেন তার বাবা। পড়াশোনায় যুবকটি ভালো। তবে মদ্যপ বলে দুর্নাম আছে।

কিন্তু কেন তার এরকম অদ্ভুত দাবি? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যুবকটি জানিয়েছিলেন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনই তার মা। আরাধ্যা ঐশ্বরিয়ার একমাত্র সন্তান নয়। আইভিএফ পদ্ধতিতে তার জন্ম দেন নায়িকা। তখনো মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জেতেননি তিনি। সংগীতের দাবি সত্যি হলে ১৪ কিংবা ১৫ বছর বয়সেই মা হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া।

মানসিক রোগ বিশেজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সংগীতের এই দাবি অস্বাভাবিক নয়। এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হলে যে কেউ এরকম দাবি করতে পারেন। বিশেষ এই মানসিক অবস্থাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় Grandiosity। সংগীত সেরকম অসুখে আক্রান্ত বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আপাতত ঐশ্বরিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৈরি ভাইজ্যাগ পুলিশ।

মহারাষ্ট্রের দলিত বিক্ষোভে কোণঠাসা মোদি
ভারতীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠল মহারাষ্ট্রের দলিত বনাম মারাঠা জাতি-সংঘর্ষ।

নরেন্দ্র মোদির রাজত্বে দলিতদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বেড়েছে, এই অভিযোগ নতুন নয়। তারই মধ্যে পুণের ভীমা-কোরেগাঁওয়ে দলিতদের অনুষ্ঠানের মধ্যেই হিন্দু সংগঠনগুলোর হামলা হঠাৎই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে দিলো। দলিতদের উপর হামলার বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ সব বিরোধী একজোট হয়েছে। এমনকী এনডিএ-র শরিক শিবসেনা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান, রামদাস আঠাওয়ালের মতো দলিত নেতারাও সরকারের উল্টো সুর গাইছেন।

পুণের ভীমা-কোরেগাঁওয়ে ১৮১৮-য় পেশোয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের যুদ্ধ জয় ফি বছরই পালন হয়। এ বার তার ২০০ বছর পূর্তি উদযাপনের পিছনে দলিতদের উত্থানও অন্যতম কারণ ছিল। গুজরাতে গোরক্ষক বাহিনীর হাতে দলিতদের মারধর জিগ্নেশ মেবাণীর নেতৃত্বে দলিত আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।জিগ্নেশই ছিলেন ভীমা-কোরেগাঁওয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান মুখ।

রাহুল গান্ধী দলিতদের উপর হামলার জন্য বিজেপি-আরএসএসের ‘ফ্যাসিস্ত দৃষ্টিভঙ্গি’-কে দায়ী করে কংগ্রেসের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সুরেই আজ কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধীরা বার বার পার্লামেন্ট অচল করেছে। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রশ্ন তুলেছেন, মোদি নীরব কেন? দলিতদের উপর হামলা হলে কেন প্রধানমন্ত্রী মৌন থাকেন?

কংগ্রেস এ ক্ষেত্রে বাড়তি ঝুঁকি নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ দলিতদের পাশে দাঁড়ালে মহারাষ্ট্রের মারাঠা ভোটে ভাঙন ধরতে পারে। এত দিন বিজেপি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে ব্রাহ্মণ নেতাকে বসিয়েছে বলে কংগ্রেস মরাঠাদের মন জয়ের চেষ্টা করছিলেন। এখন দলিতদের পাশে দাঁড়ালে মারাঠা ভোটের হিসেবে গরমিল হতে পারে। পাল্টা যুক্তি, মহারাষ্ট্রেও ৪৮টির মধ্যে ১৮টি বিধানসভা আসনে দলিতরা নির্ণায়ক। দলিত ভোট গোটা দেশেই রয়েছে। মহাত্ম্যা গান্ধী একসময়ে হরিজনদের কথা বলে দলিতদের কংগ্রেসে টেনেছিলেন। কাঁসিরাম-মায়াবতীরা সেই ভোটে ভাগ বসিয়েছে। রাহুল এখন ফের দলিত ভোট কংগ্রেসে আনতে চান। এ দিনও মহারাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে বসেন রাহুল।

ঝুঁকির উল্টো পিঠে তাই দলিত প্রশ্নে এক ঢিলে অনেক পাখি মারার সুযোগ দেখছেন কংগ্রেস নেতারা। এক, বিরোধীদের একজোট করা। সরকারের শরিকদের টেনে নেয়া। এবং তিন তালাক নিয়ে মোদি সরকারের কৌশল ভণ্ডুল করে দেয়া। সরকার তিল তালাক বিলকে সামনে রেখে ‘মুসলিম মহিলাদের রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠতে চেয়েছিল। তার বদলে আজ মোদি সরকারের গায়েই ‘দলিত-বিরোধী’ তকমা লাগানো গেল।

মহারাষ্ট্রে বিজেপির সরকার। ফলে আইন-শৃঙ্খলা ব্যর্থতার দায়ও বিজেপির। কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের ভূমিকার তদন্ত চেয়েছে। বিজেপির দাবি, সংগঠিতভাবেই পুণে থেকে গোটা মহারাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, জিগ্নেশ ও জেএনইউ-র ছাত্রনেতা উমর খালিদদের উস্কানিমূলক বক্তৃতার ফলেই পুণেয় সহিংসতা ছড়িয়েছে। অরুণ জেটলি আজ সংসদের ভিতরে-বাইরে কংগ্রেস নেতাদের বলেছেন, ‘‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরা উস্কানিমূলক বক্তৃতার দিকে নজর দিন।’’ কিন্তু কংগ্রেস, এনসিপি থেকে শুরু করে বিরোধীদের আঙুল বিজেপি-আরএসএসের প্রভাবিত হিন্দু সংগঠনের দিকে। অভিযুক্তদের তালিকায় মোদী-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শম্ভাজি ভিডের মতো হিন্দু নেতার নাম ওঠায় সেই অভিযোগও মজবুত হয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.