দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন

ফিরোজ আহমাদ

আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাহর সবচেয়ে আপনজন। তাঁর আপনজন কোনো কিছু প্রার্থনা করামাত্রই তিনি কবুল করে নেন। মুমিন বান্দাহ আল্লাহকে ডাক দেয়ার সাথে সাথে তিনি সাড়া দিয়ে থাকেন। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমার বান্দাহরা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, আমি নিকটেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)। ‘আর তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ : ৫৫)। আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। আল্লাহর চেয়ে উত্তম দাতা ও সাহায্যকারী মুমিন বান্দাহর জন্য দ্বিতীয় আর কেউ নেই। তিনিই একমাত্র বান্দাহর সব অভাব অভিযোগ পূরণ করতে পারেন। যারা আল্লাহর কাছে চায় না তাদের প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হন। হজরত আবদুল্লাহ রা: বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন’ (তিরমিজি : ৩৫৭১)।
আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। তিনিই অসহায় মানুষের সহায়। বিপদ আপদ থেকে উদ্ধারকারী। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয় যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়?’ (সূরা নামল : ৬২)। ‘তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী’(সূরা আরাফ : ৫৬)। হজরত আলী রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান এবং জমিনের নূর’ (মু. হাদিস : ৪৬৫)।
যারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর কাছে কিছু চায়। আল্লাহ তাদের হাতকে কখনো খালি ফেরত দেন না। হজরত সালমান ফারসি রা: হতে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার অনেক লজ্জা ও আত্মমর্যাদা আছে। সুতরাং যখন মানুষ চাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দু’টিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন’ (মুসলিম : ৩২১)।
আল্লাহর কাছে চাওয়ার উত্তম পদ্ধতি হলো দোয়া করা। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া অপেক্ষা কোনো জিনিসই অধিক ফজিলত ও সম্মানের নেই’ (তিরমিজি : ৩৩৭)। দোয়া করার পূর্বে করণীয় হলোÑ পাক পবিত্র হওয়া, হালাল খাওয়া, নিয়ত ঠিক করা, আদবের সাথে বসা, হারাম জিনিস বর্জন করা। দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হলো : জুমার রাত, আরাফাতের দিন, ইফতারের পূর্বমুহূর্ত, বাইতুল্লাহ তাওয়াফের সময়, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের পর, শবে কদরের রাতে ইত্যাদি। যাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন : পিতা-মাতা, শিক্ষক, মুসাফির, বুজুর্গ, মজলুম ব্যক্তি ইত্যাদি।
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। তবে একে অপরের কাছে দোয়া চাইতে কোনো নিষেধ নেই। হজরত আবু হোরায়রা রা: বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ আমি আমার বান্দাহর সাথে তেমন ব্যবহার করি, আমার প্রতি সে যেমন ধারণা রাখে আর সে যখন আমাকে ডাকে তখন আমি তার সাথেই থাকি’ (মুসলিম : ৬৮২৯)। সুতরাং যারা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করতে পারবে নিঃসন্দেহে তারা পরকালে সফলকাম হবে।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.