সাগরের প্লাবন

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সাগর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাসাগর বহুবার মহাদেশের জমির ওপর অভিযান চালিয়েছে। সাগরের জলে ভূমির অনেকটাই বারবার তলিয়ে গেছে, আবার জেগে উঠেছে। এতে এ গ্রহের বুকে উদ্ভিদ ও প্রাণী রাজ্যে এসেছে অনেক পরিবর্তন। আনুমানিক ২০ কোটি বছর আগে ক্রিস্টাসিয়াস যুগে পৃথিবীজুড়ে মহাসাগরে এক বিপুল প্লাবন দেখা দিয়েছিল। ফলে বর্তমানে সমগ্র ইল্যান্ড ও উত্তর ইউরোপ, রাশিয়ার মধ্যভাগ থেকে এশিয়ার দক্ষিণ ভাগ, ভারতবর্ষের বেশির ভাগ অঞ্চল, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সাহারা মরুভূমিসহ আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সাগরে তলিয়ে যায়। সাগরের পানি রেডিও কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে আরো জানা গেছে, আজ থেকে মাত্র দুই হাজার বছর আগে সাগরের পানি নাকি পৃথিবীজুড়ে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে উঠেছিল। তার ফলে উপকূলবর্তী মানবসভ্যতার প্রায় সবই ভেসে যায়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে যে প্রবল বন্যা বা নুহের প্লাবনের কথা লেখা আছে, তা সম্ভবত এ ঘটনার প্রতি নির্দেশ করে। ইউরোপের কাছাকাছি উত্তর সাগরের মাঝামাঝি জায়গার তলদেশ থেকে জমিতে বসবাসকারী জীবজন্তুর হাড় ও মানুষের ব্যবহার্য যেসব সামগ্রীর নমুনা পাওয়া গেছে তাতে মনে হয়, ডগার ব্যাঙ্ক নামের এ জায়গাটিতে একসময় মানুষের বসতি ছিল। এখন তা সাগরের তলায়। এখনো সাগরের তলায় প্রাচীন অনেক নগরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। সুনামি বা সামুদ্রিক ভূমিকম্প এর একটি অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.