উদ্বোধনের অপেক্ষায় ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানা

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নবনির্মিত কম্পিউটার উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি। এর ফলে স্মার্টফোনের পর ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মনিটরের মতো প্রযুক্তিপণ্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কম্পিউটার কারখানা উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ট্রায়াল প্রডাকশনের কার্যক্রম চলছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানা। ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাবের পাশাপাশি কারখানাটিতে স্থাপন করা হয়েছে সর্বশেষ জাপানি ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ।
ওয়ালটন কারখানায় এসএমটি (সারফেস মাউন্টিং টেকনোলজি) সিস্টেমের মাধ্যমে পিসিবির (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) ওপর অতি নিখুঁতভাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগত মানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরি শুরু হয়েছে। কারখানাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ। ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানায় কর্মসংস্থান হবে এক হাজার লোকের।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কারখানাটি থেকে প্রাথমিকভাবে মাসে ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ ও ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ পেন ড্রাইভ, কিবোর্ড ও মাউস উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। কারখানাটিতে ইন্টেলের সর্বশেষ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপের পাশাপাশি ছয় মডেলের ওয়ালটন ডেস্কটপ ও দুই মডেলের ওয়ালটন মনিটর উৎপাদন করা হবে।
ওয়ালটন কম্পিউটারের প্রজেক্ট ইনচার্জ লিয়াকত আলী জানান, দেশে প্রযুক্তিপণ্যের গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা মেটাতে ওয়ালটন শুরু থেকেই দেশীয় উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এবার দেশেই তৈরি হচ্ছে ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ ও মনিটরের মতো ডিভাইস। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে তৈরি উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তিপণ্য পাবেন ক্রেতারা।
ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ মানবসম্পদের উন্নয়নে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ওয়ালটন চালু করেছে দেশের প্রথম মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা। এবার চালু হচ্ছে কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। পর্যায়ক্রমে আরো আইসিটি ও আইওটি পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। দেশীয় কম্পিউটার কারখানা গড়ে ওঠায় এ খাতের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। রফতানি থেকেও বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাপকভাবে বিকশিত হবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজ। ওয়ালটনের এ কারখানা হবে হাইটেক শিল্পের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক। কম্পিউটার উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত থাকবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.