ads

ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্কট বেড়েছে মুসলমানদের
ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্কট বেড়েছে মুসলমানদের

ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্কট বেড়েছে মুসলমানদের

ডেইলি টাইমস

শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা, আক্রমণ, নির্যাতন ও খুনের শিকার হচ্ছে ইসলাম অনুসারীরা। ইসলামফোবিক হামলা এবং অপব্যবহার ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য ২০১৭ সালটি ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত খারাপ একটি বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিম বিদ্বেষী ঘটনা বেড়ে ৯১ ভাগে দাঁড়িয়েছে।

 মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনা চরম মাত্রায় বেড়েছে। মুসলমানরা কত কঠিন সময় পার করছে তা বোঝাতে কয়েকটি ঘটনার দিকে দৃষ্টিপাত করা যেতে পারে। ২০ বছর বয়সী পাকিস্তানি-আমেরিকান রাহিল সিদ্দিকী মিশিগানের টেলারের ‘ট্রুম্যান হাই স্কুল’ এর শীর্ষস্থানীয় একজন ছাত্র ছিলেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে তিনি তার জাতিকে সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন। এর কয়েক মাস পর সাউথ ক্যারোলিনার ‘পারিস আইল্যান্ড’ মার্কিন মেরিন বুট ক্যাম্পে তিনি তার শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুকে নিছকই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়।

 শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ল্যান্স করপোরাল আমীর বুরমেই এবং রেকন হুযেজ। কোর্ট-মার্শাল বিচারের সময় বুরমেই এর বর্ণনায় জানা যায় যে, ফেলিক্স তাকে একটি শিল্প-গ্রেড কাপড়ের ড্রায়ারের মধ্যে বসতে বাধ্য করেন এবং ইসলাম ত্যাগ করার জন্য চাপ দেন। বুরমেই এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে মেশিনটি চালিয়ে দেয়া হয় এবং আরো ক্ষতির আশংকা থেকে বুরমেই তার ধর্মকে ত্যাগ করতে রাজী হলে পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

ইরাকের কুর্দি বংশোদ্ভূত রেকন হুযেজও ফেলিক্সের কাছ থেকে অনুরূপ হুমকির মুখোমুখি হন। তিনি জানিয়েছিলেন যে ফেলিক্স ও অন্য আরেকজন ড্রিল সার্জেন্ট বুরুমেই’র মতো একইভাবে তাকেও ড্রায়ারে বসতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফেলিক্সকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল পারিস দ্বীপে অ্যালকোহলের বশবর্তী হয়ে প্রায়ই শারীরিক এবং মৌখিক অপব্যবহার করা।

আরেকটি সমানভাবে হৃদয় বিদারক ঘটনা হচ্ছে ১৭ বছর বয়সী ভার্জিনিয়ার রেস্টনের বাসিন্দা নাবরা হাসানেনের মৃত্যু। উষ্ণ, প্রাণবন্ত, বুদ্ধিমতী এই কিশোরী মাত্রই উচ্চ মাধ্যমিক ক্লাসের তার দ্বিতীয় বছরটি সম্পন্ন করেছিলেন। মিশরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের চারজন কন্যার একজন ছিলেন নাবরা এবং রমজানের সময় ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য নিয়মিতভাবে মসজিদে উপস্থিত হতেন।

২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাতে আইএইচপিতে সেহরি খাওয়ার পর নাবরা ও তার বন্ধুরা ‘অল ডিউলস এরিয়া মুসলিম সোসাইটি’র মসজিদে নামাজ পড়ে ফিরছিলেন। এসময় ডারউইন মার্টিনেজ-টরেস নামে ২২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। তর্কের এক পর্যায়ে লোকটি তার গাড়ি নিয়ে নাবরা ও তার বন্ধুদের পিছন থেকে দাওয়া করতে শুরু করেন এবং অবশেষে নাবরাকে ধরে ফেলেন। আবায়া পরিধানরত নাবরার ওপর গাড়ি চালিয়ে দেয়ার আগে তাকে বেসবলের ব্যাট দিয়ে আঘাত করা করা হয়। এরপর তার ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং একসময় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন। 

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.