ক্রিডেন্স শরিয়াহ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

২ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসই সূচক
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ধারাবাহিক দরপতন অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে। এ কারণে প্রতিদিনই নামছে বাজারসূচক। গতকাল নিয়ে টানা পঞ্চম দিন একই আচরণ দেখা যায় পুঁজিবাজারে। এ পাঁচ দিনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১৪৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হারায়। আর এভাবে গত দুই মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে সূচকটি। গত ৮ নভেম্বরের পর ডিএসইএক্স সূচকটি আর এত নিচে নামেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি গতকাল ২৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট হারায়। ৬ হাজার ১৯৮ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু সূচকটি বুধবার দিনশেষে নেমে আসে ৬ হাজার ১৭২ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৯ দশমিক ২৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৭৭ দশমিক ২৫ ও ৫০ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। এখানে সিএসই ৫০ ও শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৭ দশমিক ১৪ ও ৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।
এ দিকে ক্রিডেন্স ফার্স্ট শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার ৬২৩তম কমিশন সভায় ফান্ডটির অনুমোদন দেয়া হয়। বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান স্বারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। বেমেয়াদি এ ফান্ডের উদ্যোক্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপক ক্রিডেন্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রাথমিক ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তার অংশ ১ কোটি টাকা। বাকি ৯ কোটি টাকা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
একই সভায় কমিশন প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেডকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিংয়ের বিশেষ নিরীক কর্তৃক কমিশনের কাছে দাখিল করা নিরীা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বেশকিছু সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম, কোম্পানিটি মোট আইপিও তহবিলের ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বা ২১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ ব্যয় করা সত্ত্বেও তা খরচ হিসেবে আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়নি। এর মাধ্যমে ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং আইপিওর সম্মতিপত্রের (কনসেন্ট লেটার) পার্ট সি প্যারা ৭-এর শর্ত ভঙ্গ করেছে।
পাশাপাশি বুকস অব অ্যাকাউন্টস সঠিকভাবে সংরণ না করায় আর্থিক বিবরণীতে সঠিক ও যথাযথ তথ্যের প্রতিফলন ঘটেনি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮ লঙ্ঘন করেছে। তা ছাড়া ড্রাগন সোয়েটার আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত যন্ত্রপাতি না কেনার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি আইপিও সম্মতিপত্রের পার্ট সি প্যারা ৮-এর শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিংয়ের আইপিওর তহবিল ব্যয়ের বিষয়ে অনিয়ম খুঁজে পায় বিএসইসি। এর পরিপ্রেেিত কমিশনের প থেকে বিশেষ নিরীার উদ্যোগ নেয়া হয়। বিশেষ নিরীা প্রতিবেদনে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয়ের েেত্র অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়। কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে ড্রাগন সোয়েটার। তবে কোম্পানির ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পরিপ্রেেিত গতকালের কমিশন সভায় আইপিও অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের কারণে ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিংকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ ছাড়া রাইট শেয়ারের প্রস্তাবের প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাববিবরণীতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) না মানার জন্য ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড এবং তাদের ইস্যু ম্যানেজার সিটিজেন সিকিউরিটিজ ও বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে সতর্কপত্র ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসি জানায়, ঢাকা ডায়িং তাদের রাইট ইস্যু ডকুমেন্টে ২০১৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের নিরীতি বিবরণীতে আইএএস ওয়ান মানেনি। এ বিবরণীর বিভিন্ন বিষয়ে নিরীকেরও আপত্তি ছিল।
এর মাধ্যমে ঢাকা ডায়িং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রাইট ইস্যু) বিধিমালা ২০০৬-এর ৩(ই) এবং রাইট শেয়ারের দুই ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রাইট ইস্যু) বিধিমালা ২০০৬-এর ৩ (ই) ও ৫ (১) অমান্য করেছে।
এজন্য কমিশন ঢাকা ডায়িং, সিটিজেন সিকিউরিটিজ ও বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্টকে সতর্কপত্র ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.