পুঁজিবাজারে আসতে চায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

পতন সামলে দিনশেষে পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

অবশেষে পতন থেমেছে পুঁজিবাজারের। গতকাল দিনের শুরুতে বাজারগুলোতে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ থাকলেও মাঝামাঝি সময় এসে তা সামলে নেয় বাজারগুলো। দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সব ক’টি সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটে। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বিশেষায়িত সূচকগুলোর নামমাত্র উন্নতি ঘটলেও অবনতি ঠেকাতে পারেনি প্রধান দু’টি সূচকের।
বিগত দিনগুলোর মতো গতকালও লেনদেনের শুরুতে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় যা অব্যাহত থাকে প্রায় দুই ঘণ্টা। দিনের শেষভাগে বিক্রয়চাপ হ্রাস পেলে পতন থামে বাজারের। দিনশেষে ঢাকা শেয়ারবাজারের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৪ ও ৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে দশমিক ৪৭ ও দশমিক ৩৩ পয়েন্ট হারায়। তবে বাজারটির সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক যথাক্রমে ২ দশমিক ৩৩ ও দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
সূচকের পতন থামলেও অবনতি অব্যাহত রয়েছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনে। ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল ৩৮১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ৫৮ কোটি টাকা কম। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪৩৯ কোটি টাকা। সিএসইতে ৩১ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
নির্ধারিত মূল্যের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে চায় বীমা খাতের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। সম্প্রতি কোম্পানিটি আইপিওর প্রক্রিয়াগত দায়িত্ব পালন করার জন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সাথে একটি চুক্তি সই করেছে।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিতে সই করেন সোনালী লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অজিত চন্দ্র আইচ ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রহমান। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেকুল আলম, আইসিবি ক্যাপিটালের ডেপুটি সিইও শফিউল আলম, সোনালী লাইফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমান এবং কোম্পানি সচিব রাফিউজজ্জামানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দুই দফায় ১৬টি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ (আইডিআরএ)। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১১টি ও দ্বিতীয় দফায় দেয় আরো ৫টি কোম্পানি। সোনালী লাইফ হলো প্রথম দফায় অনুমোদন পাওয়া কোম্পানি।
আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, দেশের ৭৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বীমা ৩০টি ও সাধারণ বীমা ৪৮টি। দুই খাত মিলিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৬টি। বর্তমানে এ খাতে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জীবন বীমায় ২৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ও সাধারণ বীমায় ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বীমা আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে বীমা কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে ৬ মাস সময় বাড়াতে পারে।
বীমা আইন ২০১০-এর ১৩০ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হয়। যা বছর শেষে একবারে আদায় করা হয়।
গতকাল পুঁজিবাজারগুলো সূচকের উন্নতি দিয়ে দিন শুরু করলেও মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। ঢাকা শেয়ারবাজারে ডিএসইএক্স সূচকটি ৬ হাজার ১৭২ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে সকাল পৌনে ১১টায় পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে। সূচকের এ অবস্থান থেকেই বিক্রয়চাপে পড়ে বাজার। বেলা সাড়ে ১২টায় ডিএসই সূচক নেমে আসে ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ২২ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে বেলা পৌনে ১টায় ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে ডিএসই সূচক যা দিনশেষে পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১৭৯ দশমিক ৩২ পয়েন্টে। আর এভাবে টানা পাঁচ দিন পতনের পর ৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে ডিএসই সূচকের।
হারানো সূচকের কিছুটা ফিরে পেলেও গতকাল বাজার আচরণের খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। দুই পুঁজিবাজারে বেশির ভাগ খাত গতকালও দরপতনের শিকার ছিল। বরাবরের মতো ব্যাংকিং খাতে গতকালও দরপতন ঘটে। কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। এ খাতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। প্রকৌশল, রসায়ন, জ্বালানি খাতে ছিল মিশ্র আচরণ। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৭টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৬৫টি। অপরিবর্তিত ছিল ৬২টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়ে, ১২৬টির দাম কমে এবং ৩৯টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। ২৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায় ১৪ লাখ ৮২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ইফাদ অটোস উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আমরা নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল টিউব, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, সিটি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.