ads

২০১৭ সালে মিয়ানমারে প্রায় ৭০ বার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে প্রায় ৭০ বার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে কাঁপল মিয়ানমার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলে শুক্রবার মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.০। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একথা জানায়। খবর সিনহুয়ার।

খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পটি বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতের পর স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ৫৬ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাগো অঞ্চলের ফিউ’র প্রায় ২৮ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে।

মিয়ানমার ভূমিকম্প বিষয়ক কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী উ সোয়ে অং সিনহুয়াকে বলেন, এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে প্রায় ৭০ বার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

মিয়ানমারে আটক রোহিঙ্গা শিশুদের অবস্থা উদ্বেগজনক : জাতিসঙ্ঘ
মিয়ানমারের আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে অবস্থানরত বা আটকে থাকা ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর অবস্থা উদ্বেগজনক। মধ্য রাখাইনের ময়লা ও আবর্জনাপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এসব রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত শিশুরা ভয়ানক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছে।
ইউনিসেফের সহযোগীরা ওই ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মতো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুর সন্ধান পেয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার-বিচ্ছিন্ন শিশুদের সংখ্যা কমপে ১০০ জনের বেশি হবে। এদের বেশির ভাগই আবার উত্তর রাখাইনে আটকে আছে। যেখানে ইউনিসেফের সহযোগীরা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রবেশ করতে পারছে না।

প্রায় এক মাসব্যাপী মিয়ানমার সফরের ভিত্তিতে এসব কথা সাংবাদিকদের বলেন ইউনিসেফের মুখপাত্র মারিক্সি মেরকাডো। তিনি রাখাইনের পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২৫ আগস্টের আগে ইউনিসেফ রাখাইনের ৪৮০০ অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুকে সেবা দিচ্ছিল। তাদের অপুষ্টির মাত্রা উদ্বেগজনক। সহিংস পরিস্থিতির পর থেকে সেসব শিশুকে আর সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। মেরকাডো আরো বলেন, লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের বহিঃবিভাগীয় সেবা প্রদানের ১২টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। জাতিসঙ্ঘের সাহায্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোর উত্তর রাখাইনে প্রবেশ করতে না পারার ঘটনাকে তিনি ‘সমস্যার সৃষ্টিকারক’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বের চোখ বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার দিকে; কিন্তু মিয়ানমারে আটকে থাকা ৬০ হাজার শিশুর দিকে কারো চোখ নেই। তাদের কথা সবাই যেন ভুলে গেছে। তারা আটকে আছে মধ্য রাখাইনের পূতিগন্ধময় আশ্রয়কেন্দ্রে। মিয়ানমার সরকার ও রাখাইনের কর্তৃপরে সাথে মিলে রাখাইনের শিশুদের মানবিক সহায়তা দিতে আগ্রহী ইউনিসেফ। তবে এ জন্য রাখাইনে অবাধ প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। মিয়ানমার সফরে নিজের দেখা দু’টি নিকৃষ্ট আশ্রয়শিবিরের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ওই মুখপাত্র বলেন, এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘পাউকটাও টাউনশিপ’।

তিনি বলেন, ৪-৫ ঘণ্টার বোট যাত্রায় সেখানে পৌঁছুতে হয়। পৌঁছানোর পরে সবার আগে আপনার যা অনুভূত হবে, তা হলো নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসা দুর্গন্ধ। ক্যাম্পের কিছু অংশ বস্তুতই নর্দমা। পুরো ক্যাম্প নোংরা আবর্জনাপূর্ণ। সেখানে শিশুরা খালি পায়ে কাদামাটি এবং ময়লার ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। ওই ক্যাম্পের এক পরিচালক শুধু ডিসেম্বরের প্রথম ১৮ দিনের মধ্যেই আটজন শিশুর মৃত্যুর কথা জানান। ওই শিশুদের সবার বয়স তিন থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

এ ছাড়া মিস মেরকাডো রাখাইনের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজমান তীব্র ভীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি একটি পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারি যে, তারা তাদের শিশুকে এন্সিফালিটিস রোগের টিকা দেননি, কারণ টিকাদানের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ছিল মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তারা।

অন্য দিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বলছে, নিরাপত্তা ছাড়া রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না তারা। সব কিছু মিলিয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, শিশুরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মিস মিরকাডো বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান। প্রয়োজন নাগরিকত্ব ও আইনি পরিচয়। উদ্ভূত এই সঙ্ঘাতমূলক পরিস্থিতিতে সর্বপ্রথমে প্রয়োজন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এসব শিশুকে শিশু হিসেবে পরিগণিত করা। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ নিশ্চিত করে তাদেরকে সুস্থভাবে বড় হতে দেয়া। আর এর সুনিশ্চিত করণে ইউনিসেফ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজ নিজ প্রভাব কাজে লাগিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান। ইউএন নিউজ।

ads

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.