সরকারের চার বছর

গণতন্ত্রে পিছিয়ে ও সমঝোতা তৈরিতে ব্যর্থ

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নানা বিতর্কে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতায় আসার চার বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন গণমাধ্যম ও অন্যান্য মহলে চলছে সরকারের এই চার বছরের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন। এই চার বছর পূর্তির সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। গতকাল দেশের বেশির ভাগ জাতীয় দৈনিক সরকারের এই চার বছরের শাসনকে অনুষঙ্গ করে শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করেছে। এই মূল্যায়ন সম্পর্কিত রিপোর্টের শিরোনামগুলোতে এসব দৈনিকের নিজস্ব মূল্যায়নই কার্যত প্রতিফলিত হয়েছে।
একটি দৈনিকের রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ সরকার এই চার বছর উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রে পিছিয়ে রয়েছে। অপর একটি দৈনিকের রিপোর্টের সারকথা হচ্ছেÑ সরকারের এই চার বছর ভালো-মন্দে কেটেছে। এই চার বছর রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা থাকলেও ছিল টানাপড়েন ও অস্বস্তি। একটি ইংরেজি দৈনিক বলেছে, সরকারের মুখ্য প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অবাস্তবায়িত রয়েছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতি ছিল এ সময়ের সবচেয়ে বড়মাপের উদ্বেগের বিষয়। একই প্রসঙ্গ টেনে একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক বলেছেÑ ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বাকি অনেক। হাতে আছে মাত্র এক বছর। নির্বাচনী ইশতেহারে দেখানো আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল বেশ কিছু বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু ভোটের চার বছর পরও এর বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। গ্যাস সঙ্কট দূর হয়নি। সরবরাহ লাইনের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যও ম্লান। গুম-খুন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বেড়েছে সাংবাদিক নির্যাতন। শিক্ষাব্যবস্থায় নেমেছে ধস। ্রাথমিক থেকে শুরু করে সবপর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’Ñ স্লোগান সামনে রেখে দেয়া ইশতেহার আশানুরূপ বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার।
এ দিকে সরকারি দলের মুখে উন্নয়নের নানা ফিরিস্তি। উন্নয়নের নানা বিষয় তুলে ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে লাগানো হয় বাহারি সব পোস্টার-ব্যানার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। অর্থনীতির সুফল তুলে ধরতে নানা সূচকের কথা উচ্চারিত হচ্ছে সরকারি দলের নেতানেত্রীদের মুখে, কিন্তু অর্থনীতির সুফল-কুফল নিয়ে পাশাপাশি চলছে নানা বিতর্ক। শিল্পের মূলধারা মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের প্রবৃদ্ধি কমেছে। কাগুজে জিডিপির সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। কয়েক বছর ধরে এই বিতর্ক চলছে। জিডিপি নির্ধারণপ্রক্রিয়া নিয়ে আছে বিতর্ক।
সরকারের চার বছর পূর্তির বিষয়টি সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, এই সহযোগিতার জন্য অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা। অথচ এই রাজনৈতিক সমঝোতা বা ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার বরাবর চরম অনীহা প্রকাশ করে আসছে। দলটি বলছেÑ বিএনপির সাথে কোনো সমঝোতা নয়, কোনো সংলাপ নয়। এ দিকে গত পরশু সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেনÑ রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-জাতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সে উপলব্ধি থেকে আমরা অবিলম্বে বিরোধী দল-মতের সাথে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান রাখছি। আশা করি, সরকারি নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি আমলে নেবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.