কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

আটচল্লিশ.
‘কিটু?’ জোরে ডাক দিলাম। দরজার ফাঁকে মাথা ঢুকিয়ে দিলাম। ‘এই, কিটু?’
জবাব নেই।
আরেকটু ফাঁক করলাম দরজার পাল্লা। আবার ডাকলাম, ‘কিটু?’
ভেতরে তাকিয়ে হাঁ হয়ে গেলাম। আসবাবপত্র কিচ্ছু নেই। সব উধাও। দেয়ালে ঝোলানো ছবিগুলোও নেই। একেবারে শূন্য ঘর। মানুষ থাকার কোনো চিহ্নই নেই এখানে।
চোখ মিটমিট করতে করতে ভেতরে ঢুকলাম। যা দেখছি, বিশ্বাস করতে পারছি না। মিস্টার নটিংহ্যামরা চলে গেছেন! মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টা আগেও এ বাড়িটা জিনিসপত্রে ভর্তি ছিল, মানুষজন ছিল। এখন কিছুই নেই। জিনিসপত্র সব নিয়ে তাড়াহুড়া করে চলে গেছে।
নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাড়ির আরো ভেতরে ঢুকলাম। কিটুর নাম ধরে ডাকলাম। বারবার ডেকেও কারো সাড়া পাওয়া গেল না, কেবল শূন্য দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে ফিরে এলো আমার ডাক।
ডাইনিং রুমের ভেতর দিয়ে এগোলাম। খালি। ঘরটায় দীর্ঘ একটা মিনিট দাঁড়িয়ে রইলাম। রান্নাঘরের দরজাটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো, ঢুকব না, বরং সময় থাকতে বেরিয়ে যাই। এই পিশাচের বাড়িতে আবার কোন বিপদে পড়ি কে জানে!
নির্জন বাড়িটা সে-রাতের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর আর ভুতুড়ে লাগছে। কিন্তু তীব্র কৌতূহল আমাকে আটকে রাখল।
ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম দরজাটার দিকে। ওটার কাছে এসে আবার দাঁড়িয়ে রইলাম। হাজারও ভাবনা পাক খেয়ে যাচ্ছে মনে।
হয়তো রান্নাঘরের ভেতরটাও শূন্য, বাড়ির আর সব ঘরের মতোই। কিন্তু না দেখে ফিরতে ইচ্ছে করল না।
আস্তে করে হাত বাড়িয়ে, ঠেলা দিলাম দরজায়। বুকের খাঁচায় পাগল হয়ে গেছে হৃৎপিণ্ডটা। (চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.