গোপালগঞ্জে সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সরকারি খাস জমি জালিয়াতি করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোয়ালগ্রামের ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী ইউনুস আলী শেখের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে প্রকাশ, কাশিয়ানী উপজেলার ৭৩ নম্বর গোয়ালগ্রাম মৌজায় ৬০৪ নম্বর দাগে সরকারি খাস খতিয়ানে ৮০ শতাংশ ভূমি রয়েছে, যা ওই গ্রামের ভূমিদস্যু ইউনুস আলী শেখ তৎকালীন রেকর্ডের সময় উৎকোচের বিনিময়ে ৯৭৮ ও ৯৮৯ দাগে বিভক্ত করেন। এ সময় তিনি তার পৈতৃক আরএস ৬০৫ ও সরকারের আরএস ৬০৪ খাস দাগের অংশ একত্রে দেখিয়ে ৯৭৮ দাগের ৫৬ শতাংশ সরকারি ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিআরএস-৪১৬ খতিয়ানে নিজ নামে রেকর্ড করে নেন। ইউনুস আলী রেকর্ডের সময় তার পৈতৃক এসএ-২৮৮ নম্বর খতিয়ান উল্লেখ করলেও খাস আরএস-৫৫ নম্বর খতিয়ান উল্লেখ করেননি।
এভাবে তিনি ৫৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি ভুয়া রেকর্ড করিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন। এ খাস জমিতে এলাকার দরিদ্র ও ভূমিহীনেরা বসবাস করছিল। ইউনুস আলী ওই জায়গা থেকে ভূমিহীনদের তাড়িয়ে দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে পুকুর, রাস্তা ও বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। এমনকি সরকারি জায়গায় থাকা পাঁচটি বিশালাকার রেইনট্রি গাছ ইউনুস আলী কেটে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার ভূমিহীন ও ভ্যানচালক জাহিদ শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। রাস্তার পাশে খাস জায়গায় দোচালা ঘর উঠিয়ে বসবাস করছি; কিন্তু ইউনুস আলী ও তার ছেলে কুতুবউদ্দিন প্রতিনিয়ত আমাদের উচ্ছেদের জন্য হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এখান থেকে তাড়িয়ে দিলে আমরা কোথায় যাবো?’
অভিযুক্ত ইউনুস আলী শেখ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড এবং দখল করিনি। আমি আমার পৈতৃক জমিতে পুকুর, রাস্তা ও বাড়ি করে বসবাস করেছি।’
কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযুক্ত ইউনুস আলীকে অফিসে ডেকে শুনানি শেষে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.