বাগমারায় গত বছর ১৫ খুন জনমনে উদ্বেগ

আবু বাককার সুজন বাগমারা (রাজশাহী)

রাজশহীর বাগমারায় ২০১৭ সালে মোট ১৫টি খুন হয়েছে। বিভিন্ন কারণে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন মহিলা, একজন শিক্ষক, দু’জন ব্যবসায়ী, একজন প্রতিবন্ধী, একজন ভ্যানচালক ও সাতজন কৃষক। একের পর এক এসব খুনের ঘটনায় উপজেলার জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
২১ ডিসেম্বর উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর শেখপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর দুই ছেলে মন্টু প্রামাণিক ও নজের আলী প্রামাণিকের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে বড় ভাই কৃষক মন্টু প্রামাণিক (৫২) খুন হন। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ৭ নভেম্বর উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের রক্ষিতপাড়া গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন কৃষক আকবর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা হয়। ১০ নভেম্বর বড়বিহানালী ইউনিয়নের গোয়াবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক আনিসুর রহমান (৬৮) খুন হন। এ খুনের ঘটনায় নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে সাইদুল ইসলামকে আটক করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেয়। ২৭ নভেম্বর রাতে উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে কৃষক খোরশেদ আলমকে (৩৫) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। ২ অক্টোবর একই ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের জহুরল ইসলামের স্ত্রী আকলিমা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূ রহস্যজনক খুন হন। এ খুনের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের রঘুপাড়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর হাতে স্বামী সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং একই দিন আউচপাড়া ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর কোদালের কোপে স্ত্রী তহমিনা বেগম (২৫) খুন হন। একই দিনে পৃথক দু’টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ৮ সেপ্টেম্বর গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের রমজানপাড়া কারিগরি কলেজের পেছনে পাটক্ষেতের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবককের (৩০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ জুলাই শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বুজরুক কৌড় গ্রামের আবদুর রশিদ (৩০) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আবদুর রশিদের বাবা লোকমান আলী বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১০ জুন রমজানের রাতে গ্রামের একটি মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা খাঁপুর দাখিল মাদরাসার কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। এর মাত্র চার দিন আগে ৬ জুন গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের শান্তিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ জেকের আলীকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলেও একমাত্র রহিদুল ইসলাম ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। ৯ এপ্রিল কেনা জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে নরদাশ ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের রহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক প্রতিবন্ধীকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ১ মার্চ অপহরণের চার দিন পর একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মধ্য থেকে দ্বীপপুর ইউনিয়নের দ্বীপপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খুনের রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গনিপুর ইউনিয়নের আচিনঘাট গ্রামের আজগর আলীর ছেলে পিন্টু হোসেন (২৫) দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। এর দু’দিন আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি আউচপাড়া ইউনিয়নের রক্ষিতপাড়া গ্রামে ভাতিজার ছুিরকাঘাতে খুন হন চাচা তজের আলী (৪০)। ১৫ ফেব্রুয়ারি গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের হাটদামনাশ হাজীপাড়া গ্রামে মুনমুন খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূ স্বামীর হাতে খুন হন।
বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত এ উপজেলায় সাড়ে চার লক্ষাধিক লোকের বাস। বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। কাজেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেল বছরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.