মামলা জটিলতার অবসান খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন কার্যক্রম শুরু

শেখ শামসুদ্দীন দোহা খুলনা ব্যুরো

মামলা জটিলতায় পাঁচ বছর আটকে থাকা খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। চলতি মাসেই টেন্ডার-প্রক্রিয়া সমাপ্তকরণের মধ্য দিয়ে খুলনা টেক্সটাইল মিলের স্থানে ‘খুলনা টেক্সটাইল পল্লী’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সার্ভে রিপোর্ট ও ডিজাইন তৈরি করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশনের (বিটিএমসি) ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নব্বই দশকে খুলনা টেক্সটাইল মিলটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৭ বছর। বিভিন্ন সময়ে মিলটি চালুর আশ্বাস দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে টেক্সটাইল মিলটি টেক্সটাইল পল্লী হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ২০০১ সালে আবারো কাযক্রম স্থগিত হয়। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ফের ক্ষমতায় আসার পর আবারো টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কাজ শুরু করে। কিন্তু মামলার কারণে সেটিও স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে উচ্চ আদালতে সেই মামলা খারিজ হয়ে গেছে। এরপর টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের জন্য টেন্ডারও আহবান করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর ছোট বয়রা এলাকায় বর্তমান নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল নামে ১৯৩১ সালে ২৫.৬৩ একর জমির ওপর স্থাপিত মিলটির ১৯৬০ সালে নামকরণ করা হয় খুলনা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে মিলটি লে-অফ ঘোষণা করে সব জনবল বিদায় দেয়া হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০০১ সালে ওই প্রকল্প স্থবির থাকলেও ২০০৯ সালে আবারো প্রকল্পটি ফের বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক মামলা দায়ের করে। এতে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
মিলের সাথে রূপালী ব্যাংকের সোলেনামা মূলে বিরোধ নিষ্পত্তির পর আবার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে পরিশোধও করা হয় ব্যাংকের ২ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঋণ। ব্যাংকঋণ পরিশোধের পর ১৮.০২ একর জমিতে ৩৬টি শিল্প প্লটে বিভক্ত করে কার্যক্রম শুরু হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত ৪.৬১ একর জমি রাস্তা, মসজিদ, বিদ্যালয়, কবরস্থান, পার্ক এবং ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য রাখা হয়। ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয় মিল এলাকার যন্ত্রপাতি, ভবন ও গাছপালা। অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে নেয়া হয় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। ঠিক এমনই সময় ২০১০ সালে মাহমুদ আলী মৃধা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ৯৮৮০/ ২০১০। ওই রিটের বিপরীতে ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খুলনা টেক্সটাইল মিলের শেয়ার হস্তান্তর করা হতে সরকারকে বিরত থাকার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। পরে বিটিএমসির পক্ষ থেকে আপিল করা হলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিট পিটিশনটির রায়ের জন্য নির্ধারিত থাকাবস্থায়ই বিচারিক বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় মামলাটি অনিষ্পন্ন থাকে।
বিচারিক বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর মামলাটি হাইকোর্টের এন এক্স ২৬ নম্বর কক্ষের বিচারপতি রেফাত আহমেদের বেঞ্চে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে শুনানি শুরু হয়। বাদিপক্ষের একাধিকবার সময় প্রার্থনার পর শুনানির এক পর্যায়ে আবারো বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় বিচারকার্য বিলম্বিত হয়। এর পর গত বছর আগস্ট মাসে হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেন।
খুলনা টেক্সটাইল মিলের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, গত আগস্ট মাসে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপর সার্ভে রিপোর্ট ও ডিজাইন তৈরি করে বিটিএমসির ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়। তিন বলেন, এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। এ মাসেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশনের (বিটিএমসি) প্রধান প্রকৌশলী (অতি: দায়িত্ব) রঞ্জন সরকার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গত বছরের ২৬ নভেম্বর টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪টি শিল্প প্লট বিক্রি করা হবে।
খুলনা টেক্সটাইল পল্লী বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, মামলার কারণে এত দিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে এখন আর সে জটিলতা নেই। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সরকারের অন্যতম ভিশন এবং মিশন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তরিক। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলজুড়ে অনেক প্রকল্পের কাজ চলছে। আর টেক্সটাইল পল্লী স্থাপিত হলে উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং এই এলাকার লোকজনের কর্মসংস্থানসহ জীবনযাত্রার মান বাড়বে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.