সারা বছর উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

মিরসরাইয়ে হিমাগার না থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসান কৃষকের

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের শীর্ষ কৃষিপ্রধান জনপদ মিরসরাই উপজেলা। এ উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ। যেখান থেকে দেশের যেকোনো স্থানে বহন করা যায় এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য। বিশেষ করে উন্নত জাতের টমেটো, আলু, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন এ অঞ্চলের সেরা মওসুমি সবজি। এখানকার সিমের বীচি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপেও সমাদৃত। কিন্তু এ অঞ্চলে কোনো হিমাগার না থাকায় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করতে না পেরে কম দামেই বেচে দিতে বাধ্য হন। আর এ সুযোগ নেন একশ্রেণীর দালাল। এতে কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েন। মিরসরাইয়ে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে চট্টগ্রামের সবজির বাজারও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে মিরসরাই উপজেলা গঠিত। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে কমবেশি সবজি উৎপাদন করা হয়। সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদিত হয় মিরসরাই পৌরসভা, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন, খইয়াছরা ইউনিয়ন, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন ও করেরহাট ইউনিয়নে। উপজেলায় সমতল জায়গার পাশাপাশি বর্ষাকালে পাহাড়ের পাদদেশে ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, বরবটি, লাউসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করা হয়। সারা বছর মিরসরাই উপজেলায় সবজি উৎপাদন করলেও কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্যমূল্য থেকে।
গত অগ্রহায়ণ থেকে চলতি মাস পর্যন্ত প্রতিদিন ভোরে মহাসড়কের পাশে ছোট-বড় অন্তত ২০টি হাটে সবজির পাইকারি হাট বসছে। এসব হাটের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উপজেলার সোনাপাহাড়, বারইয়াহাট, মিঠাছরা, বড়তাকিয়া, ছরারকূল, নয়দুয়ারিয়া, হাদিফকিরহাট, বড়দারোগারহাট, জোরারগঞ্জ। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা থেকে পাইকারেরা এসব হাট থেকে প্রতিদিন শীতকালীন সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।
মিরসরাইয়ে স্থাপন করা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘মিরসরাই ইকোনমিক জোন’। যেখানে ৩৫ হাজার একর জমিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। উপজেলায় যদি এখন যদি একটি অত্যাধুনিক হিমাগার স্থাপন করা যায় তাহলে মিরসরাই ছাড়াও সীতাকুণ্ড ও পাশের উপজেলা ছাগলনাইয়া এবং রামগড়ের সবজিও এখানে এনে রাখো যাবে সহজেই। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের আশপাশে এখনো অনেক জায়গা অধিগ্রহণের বাকি রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে শুধু অবকাঠামোগত খরচ করে সেখানে খাস জায়গায় হিমাগার স্থাপন করতে পারে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, এ উপজেলায় মওসুমি সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ৪ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও কয়েক হাজার টন করে টমেটো, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, তিতা করলা, মুলা ও অন্যান্য মওসুমি সবজি উদ্বৃত্ত থাকে। মওসুমের শুরুতে কৃষকরা মোটামুটি মূল্য পেলেও পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফলন পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করলে সেগুলো অনেকটা পানির দরে পাইকারদের হাতে তুলে দিতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকার টমেটোচাষি ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনে আসছি একটা হিমাগার হবে। কিন্তু এখনো না হওয়ায় একপর্যায়ে পাইকারেরা টমেটোর দাম প্রতি কেজি ৫ টাকার বেশি দিতে চান না। অথচ তখনো বাজারে দাম ১৫ টাকার কম থাকে না। মওসুমের পর তো ১০০ টাকাই খেতে হয় ৯ মাস ধরে। অন্যান্য সবজিরও একই অবস্থা।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করব। একটি হিমাগার হলে এলাকার সবার জন্যই মঙ্গল। এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এলাকার ভোক্তারা পাবেন আবার ভালো দামে। এ ছাড়া অন্যত্র বিক্রিও করা যাবে। এতে এখানকার কৃষকদের আয়ও বাড়বে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.