পাথরদস্যুতার কবলে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জ

মমতাজ উদ্দিন আহমদ আলীকদম (বান্দরবান)

পাথরদস্যুতার কবলে পড়েছে লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পাথরদস্যুরা এখন বেপরোয়া। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে চলছে রাতদিন পাথর উত্তোলন। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক দফতরে অভিযুক্তদের নামের তালিকা দিয়ে অভিযোগ করেছেন।
প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বান্দরবান জেলার আলীকদমে মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমির ওপর দিয়ে ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আলীকদম-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এ বনাঞ্চলটি লামা বন বিভাগের আওতাভুক্ত। এক লাখ তিন হাজার একর আয়তনের বিশাল এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খাল ও ঝিরি থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট পাথর উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আলীকদম উপজেলায় কোনো ঝিরি-খাল থেকে পাথর উত্তোলনের সরকারি অনুমতি নেই। আমার দফতর থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে গত ২ জানুয়ারি একটি পত্র দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব দফতরে।
অভিযোগকারী পারাও ম্রো বলেন, বর্তমানে মাতামুহুরী রিজার্ভের ঠাণ্ডার ঝিরি, ধুমচিখাল, বুঝিখাল, তুলাতলী, বাগান ঝিরি, মহেশখালী ঝিরি, ঠাণ্ডা ঝিরি, ক্রাইক্ষ্যং কলার ঝিরি, বলির ঝিরি, কালাইয়ার ছড়া, কচুরছড়া, লাম্বু, বাম্বু ও ফুইট্টার ঝিরি থেকে নির্বিচারে পাথর আহরণ করা হচ্ছে। এসব পাথর উত্তোলন ও পরিবহন কাজে আলীকদমের আবুমং মার্মা, জামাল ওরফে বাইট্টা জামাল, ইউনুচ, আবুল কালাম ঠিকাদার, শুভরঞ্জন, নাছির, ইলিয়াছ, মংচিংথোয়াই ও অংহ্লাচিং এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আব্দুর রহিম জড়িত।
অভিযুক্ত আবু মং মার্মা বলেন, আমি রিজার্ভের বেশ কয়েকটি ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিলেই আমি পাথর তুলবো। অপর দিকে আবুল কালাম ঠিকাদার বলেন, আমি রিজার্ভের বাইরে থেকে নানা উপায়ে পাথর সংগ্রহ করছি। এসব পাথর সরকারি কাজে ব্যবহার হবে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো বলেন, নির্বিচারে পাথর উত্তোলন করার কারণে এলাকার পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতির আশঙ্কা আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব নিয়ে স্মারকলিপি ও অভিযোগ পেশ করায় আমাকে একটি সংস্থার লোকজন গত সপ্তাহে ডেকে নিয়ে হুমকি ও নাজেহাল করেছেন। এখন কোথাও অভিযোগ করায় উল্টো অভিযোগকারীরাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মাতামুহুরী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার সামসুল হুদা বলেন, বিভিন্ন ঝিরি ও খাল থেকে পাথর উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাথর শ্রমিক ও পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বনকর্মীরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। হাতেনাতে পাথর শ্রমিক, ব্যবসায়ী কিংবা পরিবহনে জড়িত গাড়ি পেলেই বন আইনে মামলা দেয়া হবে। লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বন আইন ১৯২৭ মতে পাথর হচ্ছে বনজসম্পদ। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া যারা পাথর উত্তোলন করছে তাদেরকে হাতেনাতে ধরা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনোভাবেই সংরক্ষিত বনভূমি থেকে পাথর উত্তোলন করতে দেবে না বন বিভাগ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.