সোনারগাঁওয়ে মেলা উপলক্ষে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন একটি স্থাপনা : নয়া দিগন্ত
সোনারগাঁওয়ে মেলা উপলক্ষে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন একটি স্থাপনা : নয়া দিগন্ত

সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব কাল শুরু হচ্ছে

হাসান মাহমুদ রিপন সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। এবারের মেলার আকর্ষণ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম ‘কাঠের কারুশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন’ শিরোনামে প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পের প্রথিতযশা শিল্পীরা অংশ নেবেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ।
এবারের মেলার উদ্বোধন করবেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ইব্রাহিম হোসেন খাঁন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া প্রমুখ।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের মেলার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে মেলার বিভিন্ন স্টলের দোকানিরা তাদের পণ্য সাজাতে শুরু করেছেন। মুড়ি-মুড়কির দোকান সাজিয়ে বসেছেন অনেকেই। অনেকেই দোকান সাজানোর জন্য ব্যস্ত। গতকাল শুক্রবার জাদুঘরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মেলা এলাকা ও প্রধান ফটকে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ফাউন্ডেশন সূূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬০ জন কারুশিল্পী মেলায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের শীতলপাটি, নওগাঁ ও মাগুরার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মুখোশ, ঢাকার শাঁখাশিল্প ও মৃতশিল্প, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশের কারুশিল্প, সোনারগাঁওয়ের এক কাঠের চিত্রিত হাতি, ঘোড়া, পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নকশিকাঁথা, বেতের কারুশিল্প, কুমিল্লার তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি, বান্দারবান ও সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারুপণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা শিল্পসহ বিভিন্ন কারুপণ্য এ মেলায় স্থান পাচ্ছে।
মেলায় কারুপণ্য প্রদর্শনীর ৩০টি স্টলসহ মোট ১৮০টি স্টল থাকবে। এদের মধ্যে হস্তশিল্প ৪৫টি, পোশাকের ৪৫টি, স্টেশনারি ও কসমেটিকস ৩৪টি, খাবার ও চটপটির স্টল ১৬টি, মিষ্টির স্টল ১০টি।
এ ছাড়া লোকজ নাটক, লোককাহিনীর যাত্রাপালা, বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান, লালন সঙ্গীত, মাইজভাণ্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়েহলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মনিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তি-মারফতি গান, ছড়াপাঠের আসর, পুঁথিপাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি উড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী ইত্যাদি থাকবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.