বাণিজ্যমেলায় সিঙ্গারের স্টলে পণ্য দেখছেন ক্রেতারা : নয়া দিগন্ত
বাণিজ্যমেলায় সিঙ্গারের স্টলে পণ্য দেখছেন ক্রেতারা : নয়া দিগন্ত
বাণিজ্যমেলায় সিঙ্গারের স্পেশাল অফার

তীব্র শীত উপেক্ষা করে মেলামুখী জনস্রোত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। সাথে কনকনে বাতাস। রয়েছে কুয়াশাও। তাতে কী! শীতের তীব্রতা উপক্ষো করেই গতকাল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ভিড় জমিয়েছেন লাখো দর্শনার্থী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত ২৩তম বার্ষিক এ মেলায় গতকাল ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকেই এসেছেন কুয়াশাচ্ছন্ন সূর্যের উঁকিঝুঁকি দেখতে।
গতকাল শুক্রবার মেলায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিশুদের হৈ-হুল্লোড় আর তারুণ্যের কোলাহলে মেতে উঠেছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। সকাল থেকেই দর্শনার্থী আসা শুরু করলেও তা বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢল নামতে শুরু করেছে। টিকিট কাউন্টারগুলোয় দর্শনার্থীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদের।
বাণিজ্যমেলা ঘিরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে শুরু হয়েছে মেলামুখী মানুষের ঢল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আছে তাতে। বেশির ভাগ দর্শনার্থীই এসেছেন আত্মীয়স্বজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে।
মেলার স্টলগুলোয় ছিল ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতারা বেছে নিচ্ছেন সাজানো উপকরণগুলো। শিশুদের পছন্দের তালিকায় ছিল খেলনার দোকান। রিমোট কন্ট্রোল ও ব্যাটারিচালিত খেলনাসামগ্রী বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। আর তরুণীদের বেশির ভাগকেই দেখা গেছে সালোয়ার-কামিজের দোকানে ভিড় জমাতে।
মেলায় কথা হয় নর্দা কালাচাঁদপুর থেকে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফারজানা আফরোজের সাথে। তিনি শুধু নিজেই আসেননি, ইব্রাহীমপুর, রামপুরা, মানিকদী, মনিপুরিপাড়া থেকে সাথে এনেছেন চাচাতো-খালাতো বোনদেরও। বেলা ১টায় মেলায় ঢুকে ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। ফারজানা বলেন, শুক্রবার আসলে কোথাও না কোথাও যাওয়া হয়। আজ বাণিজ্য মেলায় এলাম। কাজিনদের সাথে দেখা হলো। বেশ ভালোই লাগছে।
রাজধানীর আরামবাগ থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, মেলায় এসেছি ব্লেজার কিনতে। শোরুমগুলোয় এ ধরনের কিনতে গেলে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। শুনেছি মেলায় ১৩০০ টাকায় ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সুযোগ পেলে বাসার জন্য কিছু ফার্নিচার দেখব।
শেওড়াপাড়া থেকে আসা মিজানুর রহমানের সাথে রয়েছে তার তৃতীয় শ্রেণীতে পড়–য়া ছেলে। তিনি বললেন, এবার মেলায় শুধু বেচাকেনাই নয়, দেখার কিছু বিষয়ও আছে। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের সুযোগ যেমন আছে, তেমনি শিক্ষামূলক বিষয় আছে। যেখান থেকে তারা ইতিহাসও জানতে পারবে।
সিঙ্গারের স্পেশাল অফার
ইংরেজি নববর্ষ ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে সিঙ্গার বাংলাদেশ দিচ্ছে ‘নিউ ইয়ার স্পেশাল অফার’। অফারের আওতায় কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, ফার্নিচার, ল্যাপটপ, ওয়াশিং মেশিন, এলইডি ও রেফ্রিজারেটরসহ নানা পণ্য কেনায় পাওয়া যাচ্ছে উপহার ও মূলছাড়। ৩১ জানুয়ারি মেলার শেষ দিন পর্যন্ত চলবে এ বিশেষ সুযোগ।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে সিঙ্গার বাংলাদেশের ২ নম্বর প্রিমিয়ার স্টলে পাওয়া যাচ্ছে কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ওপর আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ও উপহার। ওয়াশিং মেশিন কিনলে স্ক্র্যাচ কার্ডে ওয়াশিং মেশিন, মূল্যছাড় অথবা উপহার পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। আর পুরনো এলইডি টিভি দিয়ে নতুন এলইডি টিভি কিনলে পাওয়া যাবে মূল্যছাড়।
বিক্রয়কর্মীরা জানান, এ অফারের আওতায় সহজ কিস্তিতে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ডেল ও এইচপির ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়াও পণ্যভেদে ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই ১২ মাস পর্যন্ত বিনা সুদে পণ্য কেনা যাচ্ছে। পাশাপাশি সব পণ্য কেনা যাচ্ছে ১২ মাস পর্যন্ত সহজ কিস্তিতেও। দেশব্যাপী যেকোনো সিঙ্গার আউটলেট থেকে এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তারা।
২৩তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের আকৃতি দেয়া হয়েছে। করা হয়েছে শিশুকর্নার ও অর্কিড বাগান। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের সেবা ও অবকাঠামো থাকছে। বিদেশী অংশগ্রহণকারী হিসেবে ১৭ দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
মোট স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে ৫৮৯টি। এর মধ্যে বড় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৭৭টি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট স্টল ৪০০টি। প্রবেশ মূল্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলায় ১০০টি সিসি ক্যামেরা থাকছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বক্ষণ মনিটরিং করছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা বাণিজ্যমেলা চলবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.