বাপার সম্মেলনে বক্তারা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসবিষয়ক বিশেষ সম্মেলনে রাজনীতিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিদেশী পরামর্শক ও প্রকল্পনির্ভর পরিকল্পনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে। গতকাল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) উদ্যোগে এবং দেশের প্রথিতযশা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও জাতীয় পেশাজীবী, সামাজিক সংগঠন এবং ৩৮টি বিষয় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সামাজিক আন্দোলনের সহযোগে অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমদের সভাপত্বিতে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এতে স্বাগত বক্তৃতা দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আব্দুল মতিন এবং সহসভাপতি বাপা ও বেনের বৈশি^ক সমন্বয়ক ড. নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অধিবেশনের সঞ্চালনা করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব সদস্যসচিব সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদ।
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ছিল বাংলাদেশে। আমরাই তা ধ্বংস করেছি। উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার ফলে আমরা প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো তৈরি করেছি। প্রকৃতিবিরোধী এই অবকাঠামো সাময়িক সমস্যার সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থান করতে হবে। আর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমাদের স্থানীয় জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে।
ড. এম ফিরোজ আহমদ বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধসের জন্য শুধুই প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়, মনুষ্যসৃষ্ট কারণও প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোকে অধিক ভয়াবহ করছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গঠন, বৃষ্টিপাতের ধরনের সাথে অন্যান্য দেশের অবস্থা এক নয় বিধায়, পরিকল্পনায় অন্যদেশের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য যথাযথ নয়। বিগত দিনগুলোতে আমাদের পরিবেশবিরোধী ভ্রান্ত বিদেশী পরামর্শে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বর্তমানে বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্প জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে উন্নয়ন ও পরিকল্পনায়।
আব্দুল মতিন বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, ভৌগোলিক অবস্থান থেকে সুস্পষ্ট ধারণাবিহীন বিদেশী পরামর্শক ও তাদের করা প্রকল্প এ দেশের প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান দেয়নি বরং সমস্যার বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ।
ইকবাল হাবিব বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের উদাহরণ। স্থানীয় মানুষের জ্ঞান বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণের সমন্বয়ে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব।
সম্মেলনে ১০টি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, দু’টি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক বদরুল ইমামসহ বাপা, বেন, সহ-আয়োজকবৃন্দের সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবা, গণমাধ্যম সদস্য ও পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ চার শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন।
আজ শনিবার দুই দিনের এই সম্মেলনের শেষ দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আরো পাঁচটি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, দু’টি সাধারণ অধিবেশন, একটি কৌশলগত অধিবেশন ও বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হবে। উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ৭০টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ওপর সামাজিক উপস্থাপনা রয়েছে প্রায় ২০টি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.