বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ: উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি
বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ: উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ: উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজনীতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার বিজেপি’র সংকল্প যাত্রাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেছে।

এদিকে, ওই ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আজকের পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র ও তথ্য সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ'র কাছে পাঠানো হয়েছে।

ওই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাদকারি কোলকাতায় আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় 'বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন' বয়কট করবেন বলে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন।

এছাড়া, ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে আজ কোলকাতার ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মুখে কালো কাপড় ধর্না-অবস্থানে বসেন দলীয় নেতারা।

বিজেপি’র অভিযোগ, পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে বিনানি ভবনে দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন তৃণমূল সমর্থকরা।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি কর্মীরা পথচারী নারীদের কটুক্তি করছিলেন তার প্রতিবাদ করাতেই তৃণমূল সমর্থকদের ওপর বিজেপি কর্মীরা হামলা চালান। তৃণমূল কর্মীদের বেধড়ক মারধর করাসহ এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ।

তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাঁশ, লাঠি নিয়ে পাথুরিঘাটা স্ট্রিটে তাণ্ডব চালায়। এসময় একাধিক গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়। এলাকার বিভিন্ন দোকানেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপরেও বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন করছিলাম। এর মাঝেই বিজেপি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এভাবে তারা পশ্চিমবঙ্গকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা তা হতে দেবো না।’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাল্টা দাবি, তারা মিছিলের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় তৃণমূল সমর্থকরা তাদের ওপরে হামলা চালায়।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি সবসময় বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, ভাঙচুর করার চেষ্টা করে যাতে তারা গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে পারে এবং সংবাদপত্রে ভেসে থাকতে পারে। আজ আমার সেই আশংকাই প্রমাণিত হল।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.