প্রাইভেট কার ভাঙলেন কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শ্যামলী মোড়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করেছেন আরিফুর রহমান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে শ্যামলী পিসি কালচার মোবাইল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রাইভেট কার ভাঙচুরের সময় এর চালককেও মারধর করেন ওই পুলিশ কনস্টেবল। এতে এলাকাবাসী ওই পুলিশ কনস্টেবলের ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়লে আদাবর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে মিটমাটের চেষ্টা চলছে। তবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়া হবে।
জানা গেছে, কনস্টেবল আরিফুর রহমান রাজধানীর গুলশান বিভাগে কর্মরত। আর প্রাইভেট কারটি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগের রেজিস্ট্রার ড. সাবরিনা রহমানের ছেলে রাকিবের।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে শ্যামলী মোড়ে একটি প্রাইভেটকারের সাথে ওই পুলিশের মোটরসাইকেলে হালকা ঘষা লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী ওই পুলিশ কনস্টেবল হেলমেট ও বাটন দিয়ে ওই প্রাইভেট কারটি ভাঙচুর করে। ওই সময় প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন রাকিব নিজেই। সাথে ছিলেন তার তিন বন্ধু। প্রাইভেট কার ভাঙচুর করার সময় রাকিব কনস্টেবলকে বলেন, আমার গাড়ি কেন ভাঙছেন? আপনার মোটরসাইকেল, এমনকি আপনারওতো কিছুই হয়নি। এরপর অযথাই ওই কনস্টেবল রেগে গিয়ে রাকিবকে মারধর শুরু করলে গাড়িতে থাকা রাকিবের তিন বন্ধু ভয়ে পালিয়ে যায়। কনস্টেবলের এমন অসদাচরণ দেখে একপর্যায়ে এলাকাবাসী ওই কনস্টেবলের ওপর উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাকে ঘিরে ফেলেন স্থানীয় জনতা। এতে ওই রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানা পুলিশ এসে অভিযুক্ত ওই কনস্টেবলকে জনতার হাত থেকে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে আদাবর থানায় চলে যায়।
ভুক্তভোগী জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে আদাবর থেকে গাড়িযোগ বনানী যাচ্ছিলেন তারা তিন বন্ধু। গাড়িটি আদাবর-৮ লিংক রোড হয়ে শ্যামলীর মূল সড়কে প্রবেশের মুখেই উল্টো দিকে আসা ওই কনস্টেবলের গাড়ির সাথে হালকা ধাক্কা লাগে। এরপর ওই কনস্টেবল আমাদের গাড়ি ব্যারিকেড দেন। এ ঘটনার জন্য আমরা তার কাছে স্যরি বলে ভুল স্বীকার করি। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথা না শুনে প্রথমে হেলমেট দিয়ে আমার মুখে আঘাত করেন। এরপর হেলমেট ও বাটন দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভাঙেন, আর রাগিবকে পুলিশ বক্সের ভেতরে নিয়ে পেটান। এরপর ওই পুলিশ সদস্যসহ আমাদের সবাইকে আদাবর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রাকিবের মা সাবরিনা আরিফ জানান, আমরা এ ঘটনার একটা বিহিত চাই। পুলিশের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। কিন্তু আমাদের ছেলেদের যেভাবে মেরেছে তাতে ওরা অনেক ভয় পেয়েছে। গাড়ির গ্লাসগুলো শরীরে লেগেছে। তিনি জানান, আমরা এ ঘটনায় মামলা করতে চাই না। আমরা ওই পুলিশ সদস্যের বিভাগীয় প্রধান বরাবর অভিযোগ করব তিনি যেন শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় দুর্ঘটনার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেছি। যদি ভুক্তভোগীরা মিটমাট না করে লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.