অভিভাবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

তদন্ত করে গেলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

গোলাম আজম খান কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া স্কুলে অভিভাবক আয়াত উল্লাহর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে গেলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মুমিনুর রশীদ। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভিকটিম আয়াত উল্লাহর জবানবন্দী নেন। শোনেন ঘটনার বিবরণ। এ দিন তিনি খরুলিয়া স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে জানেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নোমান হোসেন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: সেলিম উদ্দিন।
এ দিকে আয়াত উল্লাহর ওপর বর্বর নির্যাতনের ঘটনার মূল হোতা এনামুল হক ও মাস্টার নজিবুল্লাহকে চার দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার ছয় আসামির কেউই গ্রেফতার হয়নি। তবে ঘটনার ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রেকিং করা হচ্ছে তাদের মোবাইল নাম্বার।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রণজিত কুমার বড়–য়া জানান, ঘটনায় জড়িত কোনো আসামিকে ছাড় দেয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজে যাদের স্পষ্ট দেখা গেছে তাদের রেহাই নেই। বিশেষ করে স্কুল কমিটির সভাপতি এনামুল হক ও সহকারী শিক্ষক নজিবুল্লাহ মামলা থেকে বাদ যাওয়ায় বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। তাদের নাম্বার ট্রেকিংয়ে দেয়া হয়েছে। এ দু’জনকে যেখানে পাওয়া যায় আটক করা হবে। কোনো নিরীহ লোককে মামলায় জড়ানো হবে না।
ওসি আরো জানান, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আসামিকে ধরতে সিভিল পোশাকে অভিযানে যায় পুলিশ। কিন্তু তাদের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় কোনো আসামি গ্রেফতার করা যায়নি। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার মাওলানা কবির আহমদের ছেলে আয়াত উল্লাহ তার ছেলে শাহরিয়ার নাফিস আবিরের পরীক্ষার ফলাফল জানতে গত ৭ জানুয়ারি সকালে খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে যান। ছেলের ফল খারাপ হয়েছে কেন এবং পূর্বঘোষণা ছাড়াই ছাত্রদের বেতন ফি কেন বাড়ানো হয়েছে তা জিজ্ঞেস করায় শিক্ষকদের রোষানলে পড়েন তিনি। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আয়াত উল্লাহর হাত ও পায়ে রশি বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে পুরো এলাকায়। তোলপাড় হয় বিভিন্ন গণমাধ্যম। নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন ভিকটিম আয়াত উল্লাহ। মামলার অন্য আসামিরা হলোÑ দফতরি নুরুল হক, খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন, শিক্ষক ওবাইদুল হক, নুরুল হক, মিজানুর রহমান ও আব্দুল আজিজ।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ নিজেই লাঠি দিয়ে আয়াত উল্লাহকে খোঁচা দিচ্ছেন ও গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে গ্রেফতার করা গেলে অনেক রহস্য বের হবে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ন্যক্কারজনক ঘটনাটি জন্ম দিয়েছেন খরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল হক ও সহকারী শিক্ষক নজিবুল্লাহ। এই দুই ব্যক্তির কারণে পুরো শিক্ষকসমাজের গায়ে কলঙ্ক লেগেছে। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে মামলা হওয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। তাদের গ্রেফতার করার দাবি উঠেছে সব মহলে। তারা মামলা থেকে বাদ পড়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ও বাদিকে হুমকি দেয়ার কথা জানান স্থানীয়রা। সবার দাবিÑ মূল হোতা এনামুল হক ও নজিবুল্লাহকে আইনের আওতায় আনা হোক।
অভিযোগ রয়েছে, দেশ-বিদেশে আলোচিত এ ঘটনাকে পুঁজি করে একটি মহল সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশের নামও ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরনো স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন কিছু ব্যক্তি। বাদিকে বশে আনার চেষ্টাও থেমে নেই। বাদি ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্বও নিয়েছেন কয়েকজন নেতা।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.